যুক্তরাজ্যের একটি যুদ্ধজাহাজ তার পূর্বনির্ধারিত যাত্রাপথ বদলে বুধবার জাপান গিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিতভাবে কার্যকর করতে নেওয়া আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুদ্ধজাহাজটিকে জাপানে পাঠানো হয়েছে। পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র গবেষণা থেকে নিরস্ত করতে উত্তর কোরিয়ার ওপর দফার দফায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জাতিসংঘ। এর আগে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে করা জাহাজ ও জাহাজ পরিচালনাকারী বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ তালিকায় যুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাজ্যের যুদ্ধজাহাজটির নাম এইচএমএস সাদারল্যান্ড। বুধবার জাহাজটি ইয়োকোসুকো বন্দরে পৌঁছেছে। ইয়োকোসুকোতে যেমন রয়েছে জাপানি নৌ বাহিনীর সদর দফতর তেমনি সেখানে মোতায়েন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌ বহরের ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যুদ্ধজাহাজটি ‘উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত বাণিজ্যের বিষয়ে নজরদারি করবে। তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র গবেষণা অর্থায়নের প্রধান উৎসগুলোর একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে পাওয়া অর্থ।’
ব্রিটিশ যুদ্ধ জাহাজটি এমন এক সময়ে উত্তর কোরিয়ার ওপর নজদারির জন্য জাপানে গিয়েছে, যখন দুই কোরিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনা অনুষ্ঠানের দিন কাছে চলে এসেছে। এ মাসেই উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অন্যদিকে মে মাসে উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করার কথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। জাপানে নিযুক্ত ব্রিটিশ ডিফেন্স এটাচে পল ক্যাসোন রয়টার্সকে বলেছেন, ‘চাপে রাখার কৌশল হিসেবে এটা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে উত্তর করিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই যুদ্ধজাহাজটিকে পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে একটি ফ্রিগেটকে পাঠানো উত্তর কোরিয়ার প্রতি খুব কড়া একটি বার্তা।
যুক্তরাজ্য এশিয়া অঞ্চলে এ বছরে মোতায়েন করার জন্য আরও দুটি জাহাজ পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তা করা হলে অঞ্চলটিতে যুক্তরাজ্যের উপস্থিতি অনুপেক্ষণীয় হয়ে উঠবে। উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রত্যয় ঘোষণা করেছিল। পরবর্তীতে শীতকালীন অলিম্পিক উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ায় হওয়া আলোচনার পর পরিস্থিতি কিছুটা নমনীয় হয়। যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হলে কিম জং উন পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণায় নিরস্ত হওয়ার বিষয়ে আলাপ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।
গত ডিসেম্বরে জাতিসংঘের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞায় উত্তর কোরিয়ার তেল আমদানি ৯০ শতাংশ হ্রাসের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, পিয়ংইয়ং-এর অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক অংশীদার চীন ও রাশিয়া। দেশটি সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করে চীনের কাছ থেকে। নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে বছরে মাত্র পাঁচ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি কারার বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়েছে দেশটি। তাছাড়া অপরিশোধিত তেল রফতানির পরিমাণও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তর কোরিয়া এখন বছরে মাত্র ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানির সুযোগ পায়। চীন ও রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার হাজার হাজার মানুষ কাজ করে। কিন্তু জাতিসংঘের ডিসেম্বরে ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ওই দুই দেশ থেকে এক বছরের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার সকল নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠাতে হবে, যাতে তারা দেশটিতে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে না পারে।