দুই কোরিয়ার মতো ভারত-পাকিস্তানের সমঝোতা চায় পাকিস্তানি মিডিয়া

শুক্রবার উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে হওয়া ঐতিহাসিক সমঝোতার কথা উল্লেখ করে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন লিখেছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় এমন সমঝোতা প্রত্যাশিত। ডনে প্রকাশিত নিবন্ধে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তান তাদের মতবিরোধ নিরসনে আলোচনায় বসবে। তবে ভারতের এনডিটিভি লিখছে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিলে ভারতের পক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব নয়। ভারত শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও জঙ্গিরা সে উদ্যোগ বানচাল করে দেয়। india-pakistan_650x400_71448617686

গত শুক্রবার উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে পানমুনজম ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই কোরিয়ার পক্ষে কিম জং উন ও মুন জায়ে ইন ওই ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন। সেখানে বলা হয়েছে ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ইতি টানতে তারা অস্ত্র বিরতির স্থলে স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করবেন। কোরীয় উপদ্বীপ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা প্রথাগত অস্ত্র সীমিত করে আনার বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন। তারা আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, দুই কোরিয়ার মধ্যে সহযোগিতা ও আদানপ্রদানের সম্পর্ক তৈরিতে তারা উদ্যোগী হবেন। এর পাশাপাশি, কোরিয়া ভাগ হয়ে যাওয়ার কারণে যে পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল তাদের পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করা হবে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকে গত ৭১ বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। গত ৭ দশকে পাল্টাপাল্টি সংঘাত ও গোলাগুলি চলতে থাকার পাশাপাশি দেশ দুটি ১৯৬৫, ১৯৭১ ও ১৯৯৯ সালে তিনটি যুদ্ধ করেছে একে অপরের বিরুদ্ধে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনে প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও দুই দেশের জনগণের স্বপ্ন-প্রত্যাশা একই রকম হলেও ভারত-পাকিস্তানের স্বাভাবিক সম্পর্ক ও শান্তি প্রতিষ্ঠা একটি আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যই হয়ে রয়েছে এখনও। দুই কোরিয়ার সম্মেলনকে ১৯৯৯ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ীর ঐতিহাসিক লাহোর সফরের সঙ্গে তুলনা দিয়ে লেখা ডনের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, ওই সফরের পরপরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী উল্টো কার্গিলে হামলা করে বসে। তার ফলশ্রুতিতে যুদ্ধে জড়িয়ে যায় দুই দেশ।

পিটিআইয়ের বরাতে ডনের ওই সম্পাদকীয়র কথা জানিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি লিখেছে, ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কে দাগ পড়েছে অনেকগুলো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে। ২০১৬ সালে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ভারতে হামলা চালায়। এর আগে ২০০৮ সালেও পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈয়বার হামলার শিকার হয় ভারতের মুম্বাই শহর। যতবার শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ততবারই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সেসব উদ্যোগকে বানচাল করে দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে, শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যকর উদ্যোগ তখনই নেওয়া সম্ভব, যখন পাকিস্তান জঙ্গি গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।