বুধবার সংঘাতপ্রবণ মিন্দানাও দ্বীপের স্বায়ত্তশাসনের জন্য ফিলিপাইন সংসদে বিল পাস হয়েছে। খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ মিন্দানাওতে দীর্ঘ সময় ধরে সংঘাত চলমান ছিল। বার্তাসংস্থা রয়টার্স লিখেছে, এই বিল পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে অস্থিতিশীল মিন্দানাও দ্বীপের বাসিন্দারা স্বায়ত্তশাসনের সুযোগ পাবে। ওই এলাকায় থাকা ‘মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট’ (এমআইএলএফ) ও সরকারের মধ্যে গত ৫০ বছর ধরে সংঘাত চলছিল। এতে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ২০ লাখ। ২০১৪ সালে মোরোদের সঙ্গে সরকারের শান্তিচুক্তির ধারাবাহিকতায় স্বায়ত্তশাসন বিল পাস হলো ফিলিপাইনে।
ফিলিপাইন সংসদের নিম্ন কক্ষে বিলটি ২২৭ টি ‘হ্যাঁ’ ভোট পায়। বিরুদ্ধে যায় ১১টি ভোট। ২ জন সংসদ সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। বিলটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘ব্যাংসামোরো বেসিক ল।’ ওই বিলে মিন্দানাও দ্বীপের ৪০ লাখ জনগণের জন্য স্বায়ত্তশাসনের অধিকার স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। এদের সিংহভাগই মোরো মুসলমান। ব্যাংসামোরো মানে মোরোদের বাসস্থান। বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হয়ে গেলে স্বায়ত্তশাসন পাওয়া অঞ্চল আলাদা প্রশাসন ও সংসদ চালানো এবং অর্থ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পাবে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, পররাষ্ট্র নীতি এবং মুদ্রাব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে। আশা করা হচ্ছে, স্বায়ত্তশাসন পাওয়ার পর মিন্দানাওতে কাজ করা বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী এবং ইসালামি জঙ্গিদের কার্যক্রম থিতিয়ে পড়বে।
ফিলিপাইনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুয়ার্তে মিন্দানাও দ্বীপেরই একটি শহর দাভোসের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রায় ২২ বছর। দুয়ার্তে ওই বিলটি পাসের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং মঙ্গলবার বিলটিকে ‘জরুরি’ হিসেবে প্রত্যয়ন করেছিলেন, যাতে ২ জুন সংসদ মুলতবি হওয়ার আগেই বিলটি পাস হয়ে যায়। ২২ সদস্যের উচ্চ কক্ষও দুয়ার্তেকে আশ্বস্ত করেছে বিলটি পাস করিয়ে দেওয়ার বিষয়ে। আগের সরকার স্বায়ত্তশাসনের বিলটি পাস করাতে গিয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছিল। বিশেষ করে মিন্দানাওয়ের মুসলিম জনগোষ্ঠীর আস্থার সংকট একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। দুয়ার্তে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, বিলটি যদি এবারও পাস না হয় তাহলে তা আইএসের মতো ইসলামি জঙ্গিদের সুযোগ পাইয়ে দেবে। গত বছরেই ইসলামিক স্টেটের দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি গোষ্ঠী মারাউই শহর ৫ মাসের জন্য জিম্মি করে রেখেছিল। ওই শহর উদ্ধার করতে গিয়ে যে যুদ্ধ ফিলিপাইনকে করতে হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেটাই সে দেশে হওয়া সবচেয়ে বড় সংঘাত।
আয়তনে প্রায় দক্ষিণ কোরিয়ার সমান মিন্দানাও ফিলিপাইনের সবচেয়ে অনুন্নত এলাকা। কিন্তু এলাকাটিতে রয়েছে নিকেল ধাতুর খনি, বড় বড় ফলের বাগান এবং বিশাল পরিমাণ চাষযোগ্য জমি তেল উৎপাদনের জন্য সরকার যেখানে পাম গাছ রোপণ করতে চায়।