ইমরানের দলের আগাম বিজয় উদযাপন, ফল প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা বিরোধীদের

সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে গণনা প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা অবস্থাতেই বিজয় উদযাপন শুরু করেছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই)। মধ্যরাতে পিটিআইর অফিসিয়াল ফেসবুক পাতায় ইমরান খানকে ‘উজিরে আজম’ সম্বোধন করে অভিনন্দনও জানিয়েছে তারা। কিন্তু নওয়াজ শরিফের মুসলিম লীগ আর বিলাওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টিসহ শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলো ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে ফল প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন নির্বাচন কমিশন ঘোষিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফলকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৪৭ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। তাতে পিটিআই এগিয়ে  আছে ১১৩ আসনে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন) এগিয়ে রয়েছে মাত্র ৬৪টি আসনে।
পিটিআই কর্মী-সমর্থকদের উল্লাসপাকিস্তানের ৩৪২ আসনবিশিষ্ট জাতীয় পরিষদে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২৭২টি আসনে। বাকি আসনগুলো সংরক্ষিত। বুধবার (২৫ জুলাই) পাকিস্তানের ১১তম সাধারণ নির্বাচন ও চারটি প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। রেকর্ড সংখ্যক সেনা সদস্যের উপস্থিতি সত্ত্বেও দেশজুড়ে তুমুল সহিংসতা ও প্রাণহানির মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এরপর শুরু হয় প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা।

বিশ্লেষকরা শুরু থেকেই বলে আসছেন, নির্বাচনে কোনও দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম হবে না। ঘোষিত প্রাথমিক ফলাফলেও একই আভাস মিলেছে। ইমরান খানকে সরকার গঠন করতে গেলে জোট করতে হবে অন্য কোনও দলের সঙ্গে। তবে সেই ভাবনায় এখনই না গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পিটিআই কার্যালয়গুলোতে সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম খবর দিয়েছে, সকালে ইসলামাবাদে নিজের কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার সময়ও ৬৫ বছর বয়সী ইমরানের চোখে-মুখে জয়ের যে রং লেগেছিল, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে সমর্থকদের মধ্যে।

ইমরানের শিবির যখন বিজয়োল্লাসে মত্ত, পাকিস্তানের শীর্ষ ধারার রাজনৈতিক দল ‘পাকিস্তান মুসলিম লীগ’ (পিএমেল-এন), ‘পাকিস্তান পিপলস পার্টি’ (পিপিপি) এবং ‘মুত্তাহিদা পাকিস্তান মুভমেন্ট-পাকিস্তান’ (এমকিউএম-পি) তখন কারচুপির অভিযোগ এনে প্রাথমিক ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। দলগুলোর পক্ষ থেকে মূলত পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে থাকতে না দেওয়া ও তাদের হাতে ভোট গণনার পর পাওয়া ফলাফল না দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) সভাপতি শাহবাজ শরিফ এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, ব্যাপক মাত্রায় অনিয়মের ঘটনা স্পষ্ট প্রমাণ থাকায় পিএমএল-এন ২০১৮ সালের নির্বাচনের এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছে। আমাদের কর্মীদের ফরম-৪৫ দেওয়া হয়নি, ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিল এবং আমাদের পোলিং এজেন্ট ছাড়াই ভোট গণনা করা হয়েছে। এটা না সহ্য করার মতো, আর না গ্রহণযোগ্য।’

পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি একই অভিযোগ তুলেছেন। তার ভাষ্য, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনাটি ‘ভয়ঙ্কর ও ক্ষমার অযোগ্য।’ তার দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পোলিং এজেন্টদের ভোট গণনার ফলাফল জানতে দেওয়া হয়নি। বিলাওয়াল ভুট্টোর একজন মুখপাত্র টুইটারে মন্তব্য করেছেন, ‘আমাদের কর্মীদের ভোট গণনার পর ফল জানতে না দেওয়াটা কোন ষড়যন্ত্রের অংশ?’ এমকিউএম-পি একইভাবে তাদের অনাস্থা জানিয়েছে করাচিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে। দলটির মুখপাত্র ফয়সাল সাবজাওয়েরি দাবি করেছেন, হায়দ্রাবাদ ও করাচিতে তাদের পোলিং এজেন্টদের ফলাফলের সার্টিফাইড কপি দেওয়া হয়নি।

পাকিস্তানে এমন সময় এই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দুর্নীতির দায়ে আদালত কর্তৃক অযোগ্য ঘোষিত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। লন্ডনের ফ্ল্যাট ক্রয় সংক্রান্ত এক দুর্নীতির মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষিত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইমরানকে পেছন থেকে মদত দিতে নওয়াজকে নির্বাচন পর্যন্ত কারাগারে রাখতে সে দেশের সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগ এক হয়ে কাজ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হয়েছে নওয়াজের পরিবারকে। অভিযোগের সমর্থন পাওয়া গেছে পাকিস্তান হাইকোর্টের এক বিচারকের কথায়। তিনি গত রোববার বলেছিলেন, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বিচার বিভাগের কাজেও হস্তক্ষেপ করছে।