পাকিস্তানের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে ইসলামি দলগুলোর। পাকিস্তানের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় এসব দলের কথা ও প্রভাব থাকলেও এবারের নির্বাচনের ফলাফলে তাদের অবস্থান দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। হাফিজ সাঈদের নতুন দল, মওলানা ফজলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জোট, জামায়াতে ইসলাম, জমিয়তুল উলেমা পাকিস্তান, মিল্লি আওয়ামী লিগ কেউই নির্বাচনে খুব ভালো ফল করতে পারেনি। এবারের নির্বাচনে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সবগুলো ধর্মীয় দলগুলো ১ হাজার ৪০০ জন প্রার্থী দিলেও মাত্র ৩৯ জন জয়ী হয়েছেন।
বুধবারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সবগুলো আসনের ফলাফল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রকাশ করতে পারেনি পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুসারে, ২৭০টি আসনের মধ্যে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ১১৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ইমরান খানকে প্রধানমন্ত্রী করে সম্ভাব্য জোট সরকার গঠনের দিকেই যাচ্ছে দেশটি। কারান্তরীণ নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৩ আসনে এগিয়ে রয়েছে। পিপিপি এগিয়ে ৪৩ আসনে এবং বেশ কয়েকটি ইসলামি দলের জোট মুত্তাহিদা মজলিস-ই-আমল (এমএমএ) মাত্র ১১টি আসনে জয়ের পথে এগিয়ে আছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে আসেন ১৪ আসনে। অন্যদের মধ্যে এমকিউএম-পি ৬পি, পিএমএল-কিউ ৫টি, বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি) ও গ্র্যান্ড ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (জিডিএ) ২টি করে আসনে এগিয়ে আছে। ১টি করে আসনে এগিয়ে আছে শেখ রশিদের আওয়ামী মুসলিম লীগ (এএমএল), আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি) ও বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি)।
তবে দলগুলোর দাবি তারা অনেক বেশি আসনে জয়ী হবে। জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে এমএমএ ৩৬টি, তেহরিক-ই-লাব্বায়েক (টিএলপি) ২টি ও আল্লাহু-আকবার তেহরিক (এএটি) ১টিতে জয়ী হওয়া প্রত্যাশা করছে।
ইসলামি দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া এমএমএ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে। এই জোটের হেভিওয়েট প্রার্থী মওলানা ফজলুর রহমান ও জামায়াত-ই-ইসলামির আমির সিরাজুল হক হেরেছেন নিজ আসনে।
এবারের নির্বাচনে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে টিএলপি। রক্ষণশীল মওলানা খাদিম হুসেইন রিজভির নেতৃত্বাধীন দলটির প্রার্থী ছিল ৫৬৬ জন। এদের মধ্যে জাতীয় পরিষদের আসনে প্রার্থী ছিলেন ১৭৮ জন, বাকিরা প্রাদেশিক নির্বাচনে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জাতীয় পরিষদে দলটি কোনও আসনে জয়ী হওয়ার মতো এগিয়ে নেই। দলটির মুখপাত্র পির জুবায়ের আহমদ জানান, কারচুপির মাধ্যমে তাদের জয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
ভারতের মুম্বাইয়ের হামলায় অভিযুক্ত হাফিজ সাঈদের এএটি এবারের নির্বাচনে ২৬৫ আসনে প্রার্থী দেয়। এদের মধ্যে ৮৭ জন ছিলেন জাতীয় পরিষদের প্রার্থী। জাতীয় পরিষদে দলটির কোনও প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি এবং প্রাদেশিক পরিষদে একটি আসনে তাদের প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন বলে দাবি করছেন নেতারা।
টিএলপি থেকে আশরাফ আসিফ জালালির নেতৃত্বে বেরিয়ে যাওয়া একটি অংশ তেহরিক-ই-লাব্বায়েক ইয়া রাসুল আল্লাহ ১০২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। এদের মধ্যে জাতীয় পরিষদে প্রার্থী ছিলেন ২৯ জন ও ৭৩ জন প্রাদেশিক পরিষদে। জালালি নিজেই দুটি আসনে প্রার্থীতা করে হেরেছেন। তিনিও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। সূত্র: ডন