মিয়ানমারের একজন বিদেশি বিনিয়োগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতিকে একেবারেই অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাজা দেওয়ার ফলে মিয়ানমারের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলবে। বুধবার মিয়ানমারের কর্মকর্তা এই মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সিঙ্গাপুরে বিনিয়োগকারীদের একটি সম্মেলনে মিয়ানমারের বিনিয়োগ ও কোম্পানি প্রশাসনের মহাপরিচালকে প্রশ্ন করা হয়েছিল রোহিঙ্গা সংকট দেশটির অর্থনীতিতে কেমন প্রভাব ফেলেছে। জবাবে তিনি বলেন, আগের সরকারগুলো সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার বিস্তার রোধ করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু রাখাইনের সংকট ছিল ভিন্ন। আমি একেবারেই গুরুত্ব দেইনি।
অং নাইয়েং উ নামের ওই কর্মকর্তা বলেন, কিন্তু দুই বছর আপনারা দেখতে পাচ্ছেন মিয়ানমারে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) নিম্নগামী, কমছে।
গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ মিয়ানমারের মানবাধিকার নিয়ে এক তদন্ত প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে।
মিয়ানমার সরকার বারবারই দাবি করে এসেছে যে, নিরাপত্তার স্বার্থে এই অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। কোন নিধনযজ্ঞ চালানো হয়নি। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রত্যাখ্যানের মাত্রায় তারা হতবাক। সামরিক অভিযানে কখনোই হত্যা, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, শিশু নিপীড়ন ও গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।