ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুয়ার্তে বলেছেন, তার একমাত্র দোষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটানো। এই প্রথম দুয়ার্তে বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর স্বীকার করলেন। দুয়ার্তে অবশ্য একই সময়ে নিজের শাসনকাল নিয়ে গর্বও করেছেন। মূলত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ছাড়া তার আর কোনও দোষ নেই, তার দাবি এমনটাই। ওই ভাষণে তিনি বলেছেন, তিনি তার প্রাণ ও ক্ষমতা ত্যাগ করতে রাজি, কিন্তু ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ থামাবেন না। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখছে, দুয়ার্তের এমন স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক আদালতে তার বিচারের দাবিকে জোরালো করবে।
গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে দেওয়া ভাষণে সমালোচকদের উদ্দেশে দুয়ার্তে বলেছেন, ‘আমি সেনাবাহিনীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম আমার কী দোষ? আমি কি একটা পেসোও চুরি করেছি? আমার একমাত্র দোষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।’ দুয়ার্তে আগেও বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু তখন তার দাবি ছিল, সেসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু এবার তিনি স্বীকার করলেন তার দায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ফিলিপাইন সরকারের বিরুদ্ধে চালু থাকা তদন্ত বেগবান হবে। দেশটির বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর নামে সরকারি বাহিনীর দ্বারা হাজার হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
গত মার্চ মাসেই আইসিসি বলেছে, দুয়ার্তে সেসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। শুধু প্রেসিডেন্ট নন, দাভাও শহরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্যও তিনি দায়ী। এর প্রতিক্রিয়ায় দুয়ার্তে রোম চুক্তি থেকে ফিলিপাইনকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন, যাতে আইসিসি ফিলিপাইনের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে না পারে।
গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ফিলিপানের সরকারি হিসাব মতেই দেশটিতে ‘মদাকবিরোধী বৈধ অভিযানে’ সাড়ে চার হাজার মানুষ মারা গেছে। ফিলিপিনো পুলিশের ভাষ্য, এরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। কিন্তু রাষ্ট্রীয় নিধনের শিকার হওয়া মানুষদের সম্পর্কে আইসিসিতে ৭৭ পৃষ্ঠার যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে দুয়ার্তের শাসনামলে বিনা বিচারে হত্যার শিকার হয়েছেন প্রায় আট হাজার মানুষ। কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থার মতে এ সংখ্যা আরও বেশি, প্রায় ১২ হাজার।
‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচের’ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্টের দায় থাকার বিষয়ে সব সন্দেহ দূর হয়ে যায় তার এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে।’ অবশ্য প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তের মুখপাত্র হ্যারি রোকু শুক্রবার বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পরিহাসের ছলে ওই কথা বলেছেন।