সীমান্তে পুঁতে রাখা স্থলমাইন অপসারণে একযোগে কাজ শুরু করেছে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে, মাইন অপসারণের এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে উত্তেজনাকে আরও বেশি প্রশমিত রাখা এবং বিশ্বাসের ভিত্তিকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। মাইন অপসারণের সময় দুই দেশের সেনা সদস্যদের নিরস্ত করে রাখা হবে এবং মোতায়েন করা ভারি অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে সেখানে নিয়োজিত মার্কিন কর্মকর্তা নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মার্কিন বিশেষজ্ঞরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, দুই দেশের সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইনের সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।
উত্তর কোরিয়া ১৯৫০-৫৩ সালের পর থেকে এই সেদিন পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় ছিল। কারণ সেই যুদ্ধ বন্ধে শুধু অস্ত্রবিরতি চুক্তি করা হয়েছিল। সম্প্রতি দুই কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিচুক্তি করেছে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রচারণা চালানোর জন্য দুই পক্ষ সীমান্তে একে অপরের দিকে লক্ষ্য করে যে মাইক লাগিয়ে রেখেছিল তা তারা খুলে ফেলেছে এ বছরের ২৭ এপ্রিল। যুদ্ধের কারণে পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সদস্যদের তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার বিষয়েও দুই কোরিয়া এক সঙ্গে কাজ করছে। এমন একটি আয়োজন হয়েছিল গত ২০ আগস্ট। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আরও অনেকের সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্ত পানমুনজমে গিয়েছিলেন লি কেউম সেওম নামের এক বৃদ্ধা। ৬৮ বছর পর তার দেখা হয়েছিল উত্তর কোরিয়ায় থেকে যাওয়া ছেলে স্যাং চোলের সঙ্গে।
মাইন অপসারণের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জয়েন্ট সিকিউরিটি এরিয়া’ (জেএসএ) থেকে সব স্থলমাইন অপসারণে একমত হয়েছে দুই কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ইঞ্জিনিয়াররা মাইন সরানর কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। মাইন অপসারণের সময়ে জেএসএতে মোতায়েন করা অস্ত্র ও নিয়োজিত থাকা সেনা সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে নিরস্ত্র অবস্থাতে হলেও সেনা সদস্যরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
পানমুনজম ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তের গ্যানগোন এলাকায় মাইন অপসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকেই এর কাজ শুরু হতে পারে। সেখানে ১৯৫০-৫৩ সালে যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল। দুই পক্ষই সেখানে নিহত সহযোদ্ধাদের দেহাবশেষের সন্ধান চালাবে। মাইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দুই কোরিয়ার সীমান্তে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। আর এসব মাইনে সামরিক-বেসামরিক নির্বিশেষে মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
রয়টার্স লিখেছে, জেএসএতে দুই কোরিয়ার সেনাবাহিনী যে রকম মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে থাকে দুই দেশের আর কোনও সীমান্তে এখন আর সেরকম অবস্থা নেই। জেএসএতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে। সেখানে একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও তার অধীনে একজন দক্ষিণ কোরীয় সেনা কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে।
পানমুনজমে নিরাপত্তা বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়া ‘ইউনাইটেড নেশনস কমান্ডের’ (ইউএনসি) কমান্ডার ও মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্নেল চাদ ক্যারোল বলেছেন, সব মাইন সরিয়ে নেওয়ার এই প্রক্রিয়া চলাকালে সেনা সদস্যসের হাত থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হবে কি না তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান না তিনি। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র মাইন অপসারণ সফল করতে সহায়তা করছে।