দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট লি মিউংবাককে দুর্নীতির দায়ে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা ছিল। এসব মামলায় তাকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক কোটি ১৫ লাখ ডলার জরিমানার শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায় সরাসরি টিভিতে সম্প্রচার করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন, যাদের সঙ্গে এবার যুক্ত হলেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। দেশটির জীবিত সাবেক চার প্রেসিডেন্টের চার জনই বিভিন্ন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত।s2.reutersmedia.net

শুক্রবার রাজধানী সিউলের সংশ্লিষ্ট আদলতটি রায়ে বলেছে, লি নিজেই তার ভায়ের নামে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ডিএএসের প্রকৃত মালিক, যে ডিএএসের দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত চলছে। বিচারক চুং কেউ সান মন্তব্য করেছেন, ‘রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের করা এমন কাজ তীব্র নিন্দার যোগ্য। তার দুর্নীতির ফলে শুধু যে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের স্বচ্ছতা নষ্ট হয়েছে তা নয়, বরং সামগ্রিকভাবে সরকারি দফতরের ওপর থাকা আস্থা নষ্ট হয়েছে। উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কঠোর সাজা দেওয়াটা অনিবার্য।’

লির বয়স এখন ৭৬ বছর। তিনি ২০০৮-২০১৩ মেয়াদে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এ বছরের মার্চ মাসে তাকে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। লির দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি লিখেছে, অসুস্থতার কারণে তিনি শুক্রবারে রায় প্রদানের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ইয়ানহপ নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, বিচার কার্যক্রম সরাসরি টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়ার কারণেই তিনি আদালতে যাননি।

আইনজীবীরা তার ২০ বছরের কারাদণ্ডেরর দাবি করেছিলেন আদালতে। তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ডিএএসের সঙ্গে জড়িত একটি মার্কিন মামলার বিষয়ে তিনি স্যামসাংয়ের কাছ থেকে ৫৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার ঘুষ নিয়েছিলেন। আদালত বলেছে, স্যামসাংয়ের চেয়ারম্যান লি  কুন হির বিরুদ্ধে চলমান কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে তাকে মুক্তি দিতে এবং দরকার হলে ‘রাষ্ট্রপতির ক্ষমা’ নিশ্চিতে লি ঘুষ নিয়েছিলেন।