আসিয়া বিবির শাস্তি কমালে ‘চরম পরিণতির’ হুমকি

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পাকিস্তানে মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া আসিয়া বিবির শাস্তি আপিলের রায়ে কমিয়ে দেওয়া হলে তার জবাবে ‘চরম পরিণতির’ হুমকি দিয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক দল ‘তেহরিক-ই-লাব্বাইক’ (টিএলপি)। সোমবার মামলাটির আপিল আবেদনের শুনানি হয়েছে। কিন্তু আদালত কোনও রায় দেয়নি। আদৌ কবে আপিলের রায় হবে তাও নিশ্চিত নয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আসিয়া বিবিকে অন্য কোনও দেশে হস্তান্তর করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছে টিএলপি।মায়ের ছবি হাতে আসিয়া বিবির তিন মেয়ে

আসিয়া বিবির ঘটনাটি শুরু প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝগড়ার সূত্রে। প্রতিবেশীরা তাকে তাদের গ্লাসে পানি খেতে নিষেধ করেছিল এই অজুহাতে যে আসিয়া বিবি মুসলমান নন। পরে তারা দাবি করে, আসিয়া বিবি ইসলামের নবীকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। আসিয়া বিবি বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ২০১০ সালে পাকিস্তানের দানবীয় ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত আইনে প্রথম নারী হিসেবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিশ্বজুড়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রবল সমালোচনা হচ্ছে। পাকিস্তানে তার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন অনেকে। তবে এদের মধ্যে অন্তত দুই জনকে তাদের অবস্থানের কারণে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। আসিয়া বিবির পক্ষে কথা বলায় পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসিরকে তারই দেহরক্ষী হত্যা করে। আর সেই দেহরক্ষীকে পাকিস্তানে বীর হিসেবে সমাহিত করা হয়।

আসিয়া বিবির পুরাতন একটি ছবিমানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলছে, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে পাকিস্তানের ব্লাসফেমি আইনকে ব্যবহার করা হয়। পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ধর্ম অবমাননার অভিযোগগুলো উঠলেই এমন আবেগ দেখা যায় যে কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করে অভিযোগ ভুল প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট আইনটিতে ধর্ম অবমাননার সংজ্ঞাই স্পষ্ট নয়। তাছাড়া অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ হাজির করাও মুশকিল। কারণ সেরকম ক্ষেত্রে নতুন করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠতে পারে। পাকিস্তানে অনেক মানুষ ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পর গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
চরম ডানপন্থী পাকিস্তানি রাজনৈতিক দল তেহিরক-ই-লাব্বাইক (টিএলপি) দীর্ঘদিন ধরেই ব্লাসফেমি আইনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। তাদের নির্বাচনি প্রচারণার মূল বিষয় হচ্ছে ধর্ম অবমাননার শাস্তি নিশ্চিতে সর্বোচ্চ কঠোর হওয়া। সালমান তাসিরের হত্যাকারীকে তারাই বীর হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এই সংগঠন এবার আদালতের রায়ের বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। তাদের বিবৃতির ভাষ্য, ‘তাকে যদি বিদেশি কোনও দেশের কাছে হস্তান্তর করার কোনও চেষ্টা করা হয় তাহলে তার পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর।’
টিএলপি নামের চরমপন্থী দলটি পাকিস্তানে গত ২৫ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২০ লাখেরও বেশি ভোট পেয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের দলে কোনও নির্বাচিত সংসদ সদস্য না থাকলেও চরমপন্থী সমর্থকদের উপস্থিতির কারণে দলটির আলাদ প্রভাব রয়েছে। একটি ধর্মীয় বিষয়ে সামান্য পরিবর্তন ঘটার কারণ দেখিয়ে টিএলপি গত নভেম্বর মাসে রাজধানী ইসলামাবাদে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছিল। তাদের দাবি, ওই পরিবর্তন ধর্ম অবমাননা ঘটিয়েছে। অবরোধ চলাকালে পুলিশ ও টিএলপি কর্মীদের সংঘর্ষে সাত জন নিহত ও প্রায় ২০০ জন আহত হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে এক সমঝোতার প্রেক্ষিতে টিএলপি অবরোধ তুলে নেয়। গত মে মাসে টিএলপির এক জঙ্গি সদস্য পাকিস্তানের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহসান ইকবালকে গুলি করে আহত করেছিল।