মালয়েশিয়ায় নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে আরও ছয়টি দুর্নীতির মামলা

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে আরও ছয়টি দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়েছে। ১৫০ কোটি ডলারের তহবিল ব্যবস্থাপনায় বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মুদ্রাপাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে ৩২টি মামলা হয়েছে। তার ওপর বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) যুক্ত হলো নতুন এই ছয়টি মামলা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নাজিবের সঙ্গে এবার মামলায় আসামি করা হয়েছে তার সরকারের সাবেক অর্থ সচিব ইরওয়ান সেরিগার আব্দুল্লাহকে। নাজিব সরকারের আমলাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহই একমাত্র সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা।s2.reutersmedia.net

গত মে মাসে নির্বাচিত হওয়ার পর মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার দুর্নীতিবিরোধী যে অভিযান শুরু করেছে তার তদন্তের আওতায় এসেছে দেশটির শীর্ষ রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বহু সরকারি কর্মকর্তা। দুর্নীতির এসব মামলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ওয়ান মালয়েশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের তহবিল তছরুপের অভিযোগ। মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন সংস্থার কর্মকর্তা আজম বাকি জানিয়েছেন, নাজিবের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার যে ছয়টি নতুন মামলা দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে চারটি মামলা ওয়ানএমডিবি ও দুবাইয়ের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আইপিআইসির মধ্যে হওয়া ৪৭৮ কোটি রিঙ্গিতের লেনদেন সংক্রান্ত। ২০১৭ সালে ওয়ানএমডিবি আবুধাবির আইপিআইসিকে ১২০ কোটি ডলার দেওয়ার চুক্তি করেছিল দুই দেশের মধ্যে থাকা বন্ড লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তিতে।

নাজিব ও আব্দুল্লাহ, দুইজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। কিন্তু আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিটি মামলায় সর্বোচ্চ ২০ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে তাদের প্রত্যেকের। সেই সঙ্গে রয়েছে আর্থিক জরিমানার দণ্ড। তাদের বিরুদ্ধে বেত্রাঘাতের সাজাও ঘোষিত হতে পারত। কিন্তু যেহেতু তাদের দুই জনেরই বয়সই পঞ্চাশের বেশি সেহেতু তাদেরকে বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হবে না। নাজিবের বক্তব্য, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি। এমনটা ভেবে নেওয়া ঠিক হবে না, যে পরিমাণ অর্থ লোপাটের অভিযোগ তোলা হয়েছে তা আসলেই তাহবিলে নেই।’

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কুয়ালালামপুর ইন্টারন্যাশনাল বেরহাদের ২২ কোটি রিঙ্গিত, সংশ্লিষ্ট আরেকটি প্রতিষ্ঠান ও অর্থ সহায়তা কর্মসূচির ১৩০ কোটি রিঙ্গিত এবং ৩৩০ কোটি ডলারের অন্যান্য সরকারি তহবিল তছরুপের সঙ্গে নাজিব ও আব্দুল্লাহ জড়িত। কিন্তু নাজিব রাজাকের আইনজীবী শাফি আব্দুল্লাহ আদালতে বলেছেন, ‘এই তহবিলগুলো নির্দিষ্ট কারণে স্থানান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারের অগ্রাধিকার পাল্টে যায়। আইপিআইসির সঙ্গে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলার জন্য একটি সৎ নির্বাহী আদেশের প্রয়োজন ছিল।’

বাকি দুইটি অভিযোগের একটি পাইপলাইন প্রকল্প সংক্রান্ত এবং অপরটি রেল লাইন সংক্রান্ত। রেল লাইন প্রকল্পের সঙ্গে চীন যুক্ত। প্রকল্পের আকার এক হাজার ৪০০ কোটি ডলার। নাজিবের সময় চীনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রকল্পের চুক্তিটি বাতিল করে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।