পদ ছাড়বেন না শ্রীলঙ্কার বরখাস্ত প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্টের দ্বারা বরখাস্ত হওয়া রনিল বিক্রমাসিংহে দাবি করেছেন, তার পক্ষে রয়েছে সংসদের সমর্থন। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত আইনত অবৈধ। তাই তিনি পদত্যাগ করবেন না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি লিখেছে, বিক্রমাসিংহকে বরখাস্ত করাকে কেন্দ্র করে শ্রীলংকায় ইতোমধ্যেই প্রতিবাদ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিক্রমাসিংহের এই দাবি দ্বীপরাষ্ট্রটির সাংবিধানিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে।2018-10-29T090531Z_1953777600_RC1B39858E30_RTRMADP_3_SRI-LANKA-POLITICS

গত সপ্তাহে বিক্রমাসিংহে এবং তার মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। সংসদ স্থগিত করে দিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ্রা রাজাপাকসেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন তিনি। শ্রীলংকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত ও চীনের মতো দেশ। দুই দেশই শ্রীলংকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারে আগ্রহী। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র  যত দ্রুত সম্ভব সংসদ বলবৎ করার আহ্বান জানিয়েছে শ্রীলংকার প্রতি।

সরকারি বাসভবনে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিক্রমাসিংহে বলেছেন, ‘আমি এখনও প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন রয়েছে আমার প্রতি। সংবিধানে বলা আছে, প্রেসিডেন্ট এমন কাউকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করবেন, যার প্রতি সংসদের সমর্থন আছে। আমি সেই ব্যক্তি, যার সেটা রয়েছে। আমরা সংসদ অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছি, যাতে আমি আমার প্রতি থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন প্রমাণ করতে পারি।’

বিক্রমাসিংহের দল যত দ্রুত সম্ভব সংসদ অধিবেশন ডাকার দাবি তুলেছে। কিন্তু প্রেসিডেন্টের নিয়োগ করা প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসে মন্তব্য করেছেন, আগামী সপ্তাহ নাগাদ তা হতে পারে, যদিও তারিখ এখনও চূড়ান্ত নয়।

বিবিসি লিখেছে, এশিয়ার সবচেয়ে প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাগুলোর একটি হিসেবে শ্রীলংকার জন্য এটি একটি বিরল পরিস্থিতি । কীভাবে পরিস্থিতির এমন নাটকীয় পরিবর্তন ঘটলো তা বুঝতে তাকাতে হবে ২০১৫ সালের ঘটনাপ্রবাহের দিকে। বিক্রমাসিংহে ও রাজাপাকসে দীর্ঘদিন ধরেই শ্রীলংকার রাজনীতিতে দুটি ভিন্নধারার রাজনীতির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা আগে রাজাপাকসের সরকারের সদস্য ছিলেন।

রাজাপাকসে পর পর দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৫ সালে সিরিসেনা প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন। তিনি পরাজিত করেন তার নিজ দলের নেতা রাজাপাকসেকে। ২০১৫ সালের ওই নির্বাচনের পর গঠিত হয় জোট সরকার, সিরিসেনা যার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন বিক্রমাসিংহেকে। কিন্তু তারপর থেকে তাদের দুইজনের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠতে থাকে, যার প্রেক্ষিতে সিরিসেনা তাকে বরখাস্ত করে সাবেক সহযোগী রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

এমন ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে বিবিসি সিরিসিনাকে ‘কিং মেকার’ আখ্যা দিয়েছে।