শ্রীলঙ্কার নতুন মনোনীত প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে ক্ষমতার লড়াইয়ে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন। দেশটির সংখ্যালঘু তামিল জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক জোট জানিয়েছে, তারা রাজাপাকসের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনবে। শনিবার এক বিবৃতিতে এই অবস্থান জানায় তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (টিএনএ)। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এখবর জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট কর্তৃক রাজাপাকসে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের সিদ্ধান্তটিকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে উল্লেখ করেছে টিএনএ। বিবৃতিতে জোটটি জানায়, রাজাপাকসেকে দায়িত্ব থেকে সরাতে বরখাস্তকৃত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহকে সমর্থন জানাবে তারা।
২২৫ আসনের শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে ১৫ জন আইনপ্রণেতা রয়েছে টিএনএ’র। বিক্রমাসিংহে সমর্থন পাচ্ছেন ১০০ জন সদস্যের। ফলে রাজাপাকসের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে সংখ্যালঘুদের এই জোট। কোনও প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পার্লামেন্ট সদস্যদের ১১৩টি ভোট প্রয়োজন।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, টিএনএ জোটের এই সিদ্ধান্ত রাজপাকসেকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না। কারণ এরই মধ্যে বিক্রমাসিংহের জোট থেকে ছয়জন এমপিকে দলবদল করিয়েছেন রাজপাকসে।
২৬ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা বিক্রমাসিংহকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব হতে বরখাস্ত করেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজপাকসেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন রাজপাকসে। সিরিসেনা ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন স্থগিত করলে সাংবিধানিক সংকট দেখা দেয়।
বিক্রমাসিংহে নিজেকে এখনও প্রধানমন্ত্রী দাবি করছেন। তিনি পার্লামেন্টে ভোট দাবি করেছেন। শুক্রবার জাতিসংঘও এই দাবিকে সমর্থন করেছে। একই দিন রাজপাকসের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব দিয়েছে। পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হলে প্রস্তাবটি এজেন্ডায় আসবে।