উপনির্বাচনের ফলাফল সু চির দলের জন্য ‘একটি শিক্ষা!’

মিয়ানমারের সদ্য অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে দলের ফলাফল বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন দলটির একজন নেতা বলেছেন, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে প্রার্থীদের ফল বিপর্যয় দলের জন্য একটি শিক্ষা। ‘ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স’ (এনএলডি)’ নামক দলটির সংশ্লিষ্ট নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, ১৩টি আসনে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে তার দল বড় জোর সাতটিতে জয়লাভ করবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই উপনির্বাচনের ফলাফলে বর্তমান সরকারের টিকে থাকা না থাকার ওপর কোনও প্রভাব পড়বে না। কিন্তু ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের জন্য এটি একটি সূচক হিসেবে গণ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের কাছে।s3.reutersmedia.net.htm

শান্তিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত মিয়ানমারের ডিফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছিল, দেশটিতে দশকের পর দশক ধরে চলা জাতিগত সংঘাতের সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার। কিন্তু হয়েছে উল্টো।  শান্তি আলোচনা তো স্থগিত হয়েছেই সেই সঙ্গে বেড়েছে সহিংসতা। দেশটির সেনাবাহিনী সন্ত্রাস দমনের নামে গত বছরের আগস্ট মাসে রাখাইন প্রদেশে অভিযান শুরু করে। তাদের হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণসহ নানামুখী মানবতাবিরোধী অপরাধের ভুক্তভোগী হয়ে বাংলাদেশে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। মিয়ানমার তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতে বিষয়ে যেমন টালবাহানা করছে, তেমনি তাদের মিয়ানমারের ফিরে যাওয়ার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতেও দৃষ্টিগ্রাহ্য পদক্ষেপ নিচ্ছে না। শুধু রাখাইনে নয় কাচিন ও শান প্রদেশেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়েছে।

মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষিত না হলেও গত শনিবারে (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফলের বিষয়ে বলতে গিয়ে এনএলডির মুখপাত্র মিও নান্ট উল্লেখ করেছেন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় থাকা ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে আমরা হেরেছি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষরা আমাদের ওপর সন্তুষ্ট নয়। এই ফলাফল আমাদের জন্য একটি শিক্ষা। আগামী নির্বাচনকে মাথায় রেখে আমরা প্রতিটি আসনের জন্য নতুন কৌশল নির্ধারণ করব।’

কাচিনের একটি আসনে এনএলডি ২০১৫ সালের নির্বাচনে জিতছিল। এবারের উপনির্বাচনে সেই আসনে তাদের অবস্থান তৃতীয়। মূলত বার্মিজ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেই জিতেছে সুচির দল। শনিবার উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া আসনগুলোর ১১টির ক্ষেত্রে উপনির্বাচন দেওয়া লেগেছে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের মৃত্যুর কারণে। নির্বাচন হয়েছে  কেন্দ্র ও প্রাদেশিক উভয় পর্যায়ের আসনেই।