ইন্দোনেশিয়ায় লায়ন এয়ারের মালিককে হাত জোড় করে দাঁড়াতে হলো

ইন্দোনেশিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজনরা সোমবার (৫ নভেম্বর) আয়োজিত এক সম্মেলনে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও বিমানটিকে উড্ডয়ন করতে দেওয়ার বিষয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত স্বজনরা লায়ন এয়ারের প্রতিষ্ঠাতাকে সামনে আনার দাবি তোলেন। তাদের চাপে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও চেয়ারম্যান রুসদি কিরানাকে সবার সামনে হাত জোড় করে দাঁড়াতে হয়। বিধ্বস্ত বিমানের উদ্ধার করা ব্ল্যাকবক্স থেকে জানা গেছে, বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের বিমানটির সর্বশেষ চারটি ফ্লাইটেই গতি মাপার বিষয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি দুর্ঘটনার একটি কারণ হতে পারে। তবে গতি মাপার সেন্সর থেকে শুরু করে বিমানের কমপিউটার পর্যন্ত সব কিছুর বিষয়েই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।rusdi-kirana-diminta-berdiri-dan-meminta-maaf_20181105_182506

গত ২৯ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় ১৮৯ জনকে নিয়ে লায়ন এয়ারের বিমানটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়। জেটি-৬১০ ফ্লাইটটি জাকার্তা বিমানবন্দর থেকে ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ শহর পাঙকাল পিনাঙয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মাথায় নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ওই এলাকার আশেপাশে যারা নৌকায় ছিলেন তারা আকাশ থেকে বিমানটিকে সাগরে পড়তে দেখেছেন। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, সমুদ্রের ২০ থেকে ৩০ মিটার গভীরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। মাসখানেকের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা।

এয়ারস্পিড মিটারে (বিমানের ওড়ার গতি মাপার মিটার) যে ত্রুটি ছিল তা জানতে পারাটা তদন্তের জন্য অনেক বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্ঘটনার দিন ফ্লাইটের শুরুতেই সমস্যার মুখে পড়া এবং তার আগের ফ্লাইটেও সমস্যা থাকার কথা কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানানো হয়েছিল। এসব তথ্য সামনে আসার পর থেকেই গতি সংক্রান্ত ত্রুটি থাকার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। ব্ল্যাকবক্সের তথ্য থেকে এবার নিশ্চিত হওয়া গেল, বিধস্ত বিমানটির গতি ঠিক কত তা জানতে সমস্যায় পড়েছিলেন সংশ্লিষ্ট বৈমানিকরা।

বিমান ওড়ার গতি মাপার জন্য যে সেন্সর ব্যবহৃত হয় তার নাম ‘পাইলট টিউব।’ এটি বিমানের ডানা বা তলের কোন স্থানে বাতাসের চাপ পরিমাপ করে। তারপর বিমানের অন্য স্থানে লাগানো ‘স্ট্যাটিক পোর্ট’ নামের আরেকটি সেন্সরের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বিমান ওড়ার গতি হিসেব করে। এই পাইলট টিউবে নানান কারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এরকম একটি কারণ হচ্ছে বরফ জমে যাওয়া।

গতি সংক্রান্ত তথ্য যথার্থভাবে দেখাতে না পারার ত্রুটি থাকার কথা জানতে পারলেও তদন্তকারী এখনও নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না, আসলে কী কারণে দুর্ঘটনা হয়েছে। বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে নিয়োজিত তদন্তকারী নুরচাইও উতোমো বলেছেন, ‘আমরা সম্ভাব্য কারণগুলো খতিয়ে দেখছি। এটা কী গতি দেখাবার যন্ত্রের ত্রুটির কারণে হয়েছে, না কি গতি মাপার সেন্সেরের ত্রুটির কারণে হয়েছে, না কী কমপিউটারের কোনও সমস্যার কারণে হয়েছে তা এখনও আমরা নিশ্চিত করে জানি না।’

সোমবারের সম্মেলনে নিহতদের স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা প্রশ্ন করেন, ত্রুটি দেখা দেওয়ার পরও কেন বিমানটিকে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল? তারা একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতায় কোনও বিলম্ব না করারও দাবি তোলেন। এক পর্যায়ে দুর্ঘটনায় নিহতদের উত্তেজিত স্বজনরা লায়ন এয়ারের মালিককে উঠে দাঁড়াতে বলেন। স্বজনদের তোপের মুখে লায়ন এয়ারের প্রতিষ্ঠাতা রুসদি কিরানাকে দুই হাত জোড় করে উঠে দাঁড়াতে দেখা যায়।