ইন্দোনেশিয়ায় সুনামিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২, আহত কয়েক শ

ইন্দোনেশিয়ার জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপে আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ভূ-গর্ভস্থ ভূমিধসের ফলে সুনামিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ জনে। রবিবার দেশটির কর্মকর্তারা নিহতের এই সংখ্যা জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, অনেকেই আহত হওয়ার কারণে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে। 

3691

শনিবার সুন্দা প্রনালীতে আঘাত হানে এই সুনামি। এতে কয়েকশ বাড়ি ও ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় এবছরের ভয়াবহ ট্র্যাজেডির সর্বশেষ ঘটনা শনিবারের  সুনামি। এবছই সালওয়েসি দ্বীপে ভূমিকম্প ও সুনামিতে সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারান। অক্টোবরে জাভা সাগরে লায়ন এয়ারের একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হলে প্রায় ২০০ মানুষ নিহত হন।

সুন্দা প্রনালীর উপকূলে অবস্থানরত পর্যটক ও স্থানীয়দের ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সৈকত থেকে দূরে থাকার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

1573

টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, বিধ্বস্ত বাড়িঘরের জঞ্জালে সড়কগুলো বন্ধ হয়ে চলাচলে অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। গাড়ি উল্টে গেছে ও গাছ উপড়ে ভেঙে পড়েছে। একটি ব্যান্ড কনসার্টের মঞ্চ ভাসিয়ে নিয়েছে সুনামির ঢেউ। এক সংগীত শিল্পী ও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ১৩ দেশে ২ লাখ ২৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি নিহত হয়েছিলেন শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই। ১৮৮৩ সালে ক্রাকাটাও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ধারাবাহিক কয়েকটি সুনামিতে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার প্রধান এনদান পারমানা জানান, তানজুং লেসুং এলাকায় পুলিশ হতাহতদের সহযোগিতা করছে। এখনও জরুরি সেবার কর্মীরা সেখানে হাজির হতে পারেননি। এই এলাকাটি বানটেন প্রদেশে অবস্থিত। এলাকাটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।

3000

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বানটেন প্রদেশের পশ্চিম উপকূল।  সেখানে একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানে সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের আড়াই শতাধিক কর্মী জড়ো হয়েছিলেন। তাদের মধ্য অন্তত ৭ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানায়, তারা এখনও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছে। ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র জানান, নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ জনে এবং অন্তত ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

আনাক ক্রাকাটাও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে সাগরের তলদেশে ভূমিধসের কারণে এই সুনামি সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের কারণে ঢেউয়ের উচ্চতা অস্বভাবিক বেশি ছিল।

এই আগ্নেয়গিরিটি জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি অবস্থিত। গত কয়েক মাস ধরেই এটা থেকে ছাই উড়ছিল। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার পর অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয় এবং সাড়ে ৯টায় সুনামি আঘাত হানে।

উল্লেখ্য, ১৮৮৩ সালের দুর্যোগে এই আগ্নেয়গিরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পরে ১৯২৭ আবার তা দেখা যায়। এরপর থেকেই তা বৃদ্ধি পাচ্ছিল।