মিয়ানমারের শিন প্রদেশে দুই লেনের রাস্তা নির্মাণে কর্মরত আট কর্মীকে আটকের কথা স্বীকার করেছে দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি। দেশটির বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় গোষ্ঠীটির দাবি, তদন্তের স্বার্থে সু তু স্যান কর্পোরেশনের এসব কর্মীকে আটক করেছে তারা। দেশটির সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার টাইমস জানিয়েছে, শনিবার শিন প্রদেশের পালেতয়া শহরের কাত তু ওয়া গ্রাম থেকে ১৩ নির্মাণকর্মীকে আটক করে আরাকান আর্মি। পরে তিন পুরুষ ও দুই নারী কর্মী পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাকিরা আটক থেকে যায়।
মিয়ানমারে জাতিগত সংঘাত ও দারিদ্র্য-জর্জরিত রাখাইনে কেবল রোহিঙ্গারাই একমাত্র নিপীড়িত জাতিগোষ্ঠী নয়। রাখাইন বৌদ্ধরাসহ (আরাকান জাতিভূক্ত) সেখানকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী সেনা প্রভাবিত কেন্দ্রীয় সরকারের নিপীড়নের শিকার হয়। কেবল রোহিঙ্গা ছাড়া বাদবাকি সব জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতির প্রশ্নকে সামনে রেখেই নিজেদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে আরাকান আর্মি। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে এই সরব ভূমিকা বিশেষত রাখাইন বৌদ্ধদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি হয়েছে।
শনিবার নির্মাণকর্মীদের আটকের বিষয়ে আরাকান আর্মির মুখপাত্র বলেছেন, ‘যাদের আটক করা হয়েছে তারা যুদ্ধাঞ্চলে প্রবেশ করেছিল। অনেকেই ছিল বিদেশি। সুতরাং তদন্ত করা দরকার। আমরা সাধারণ মানুষের জন্য হুমকি নই। আমরা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের বিরোধী নই। যাদের আটক করা হয়েছে তারা সেনা গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে হয় কর্মরত বা আগে কর্মরত ছিল’।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র বলেন, আটককৃতদের মধ্যে যাদের নিরাপরাধ পাওয়া যাবে তাদের মুক্তি দেওয়া হবে।
তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের মুখপাত্র উইন জাও উ জানিয়েছেন, পাঁচদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন ওই ৮ কর্মী। আর তাদের বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেনি তারা।
মিয়ানমার টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, শনিবার আরাকান আর্মির যোদ্ধারা সু তু স্যান করপোরেশনের মোটরসাইকেল, গাড়ি এবং বুলডোজারে আগুন ধরিয়ে দিয়ে কর্মীদের অপহরণ করা হয়।
মঙ্গলবার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে পালেতয়া ব্রিজ প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। গত ১৬ মার্চ পালেতয়া-মিজোরাম সড়কে নির্মাণাধীন এই ব্রিজ প্রকল্পের সরঞ্জাম বহনকারী একটি জাহাজ জ্বালিয়ে দেয় আরাকান আর্মির যোদ্ধারা।