পাকিস্তানের একটি মহাসড়কে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এমনকি ওই নারীকেই ঘটনার জন্য দায়ী করে পুলিশ। বিষয়টি জানাজানি হলে লাহোরে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের ডাকে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রতিবাদে যোগ দিয়েছেন অনেক নারীও। অবশেষে পুলিশ ধর্ষণে সন্দেহভাজন ১ জনকে গ্রেফতার করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এখবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর রাতে দুই সন্তানকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে লাহোরের হয়ে গুজরানওয়ালা প্রদেশে যাচ্ছিলেন ওই নারী। লাহোর হাইওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা তার গাড়ির তেল ফুরিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে স্বামীকে ফোন করে নিজের বিপদের কথা জানান তিনি। তারপর স্বামীর পরামর্শ মতো পুলিশকে ফোন করে সাহায্য করার আবেদন জানান।
কিন্তু পুলিশ আসার আগেই সেখানে দুই যুবক এসে হাজির হয়। তারপর গাড়ির জানলার কাঁচ ভেঙে ওই নারীকে বাইরে বের করে তার দুই সন্তানের সামনেই একে একে ধর্ষণ করে। দুষ্কৃতীরা ওই নারীর তিনটি এটিএম কার্ড ও সঙ্গে থাকা টাকা ও গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা উমর শেখকে প্রশ্ন করা হলে ওই নারীকেই দোষারোপ করেন তিনি বলেন, পাকিস্তানের কোনও পুরুষ তাদের বোন এবং মেয়েদের রাতে একা বাইরে বের হতে অনুমতি দেবেন না। ওই নারীর উচিৎ ছিল অন্য কোনও নিরাপদ রাস্তা বেছে নেওয়া বা দিনে যাতায়াত করা।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার এই বক্তব্যের কথা জানাজানি হতেই প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠে পাকিস্তানের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য। পোস্টার হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন হাজারের বেশি নারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে এই ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এরপরই ১জনকে গ্রেফতার করেছে লাহোর পুলিশ।
পাঞ্জাব পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান আতিফ নাজির রবিবার জানান, ফোন রেকর্ড ট্র্যাক করার মাধ্যমে দুই সন্দেহভাজনের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন নিজেকে নির্দোষ দারি করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিদর্শক ইনাম ঘানি শনিবারে রাতে জানান, ডিএনএ শনাক্তের মাধ্যমের পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছে। দ্রুতই তাদের গ্রেফতার করা হবে।