র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের থেকে আরও দ্রুত এবং সঠিকভাবে করোনা শনাক্ত করতে পারে এমন একটি কিট আবিষ্কার করেছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। উৎপাদনে সাশ্রয়ী কাগজ দিয়ে তৈরি এই কিটটি গর্ভাবস্থা পরীক্ষার মতোই দ্রুত ফলাফল জানাতে পারে। সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ‘ফেলুদা’র নামেই এটির নামকরণ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই কিট করোনা পরীক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
‘ফেলুদা’ মাত্র ৪৫ মিনিটেই নমুনা পরীক্ষার ফল জানাতে পারে। এর দাম কিট প্রতি ৫০০ রুপি। ফেলুদার ক্ষেত্রে অন্যতম সুবিধা হলো, অনেক দ্রুত কোভিড টেস্টের ফল পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, রিপোর্টের জন্যও দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হবে না। সেই সঙ্গে টেস্টের খরচও অনেক কম।
ভারতীয় শিল্প গোষ্ঠী টাটা এই কিট তৈরি করবে। বাজারে পাওয়া করোনা পরীক্ষায় কাগজ দিয়ে তৈরি বিশ্বের প্রথম কিট হবে ফেলুদা।
ভারতীয় বিজ্ঞানীরা বলছেন, র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার থেকে আরও দ্রুত এবং সঠিকভাবে কোভিড-১৯ আক্রান্তকে শনাক্ত করতে রঙ পরিবর্তন করতে পারে ভারতের সিআরআইএসপিআর ‘ফেলুদা’। তারা বলছেন, এটি করোনা শনাক্তকরণের জন্য আরটি-পিসিআরের একটি সস্তা, দ্রুত এবং সহজ বিকল্প হতে পারে।
একটি বিশেষভাবে তৈরি‘পেপার স্ট্রিপ’এর মাধ্যমে কোনও ব্যক্তি কোভিড আক্রান্ত কি না, তা কয়েক মিনিটেই চিহ্নিত করতে পারে এই টেস্ট কিট। ১৯ সেপ্টেম্বর এই টেস্ট কিটের বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া।
এটি তৈরি করেছেন দুই বাঙালি বিজ্ঞানী শৌভিক মাইতি ও দেবজ্যোতি চক্রবর্তী। দু’জনেই কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ-এর ইনস্টিটিউট অব জেনোমিকস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজিতে কর্মরত।
আইজিআইবি-র ডিরেক্টর অনুরাগ আগরওয়াল জানিয়েছেন, এটির কাজ একটি সাধারণ রিয়েল টাইম রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন-পলিমেরেজ চেন রিঅ্যাকশনের (আরটি-পিসিআর) মতোই শুরু হয়, যা রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (আরএনএ)-এর এক্সট্রাকশন এবং ডিওক্সাইরিবোনিউক্লিক অ্যাসিডে (ডিএনএ) রূপান্তরিত হয়।
প্রযুক্তিটি জিনের মধ্যে ডিএনএর নির্দিষ্ট সিকোয়েন্সগুলি শনাক্ত করতে পারে। এতে এক ধরনের এনজাইম ব্যবহৃত হয়। উদ্ভাবক বিজ্ঞানীদের দাবি, খুব কম সময়ের মধ্যে এটি ভাইরাসের জিনগত উপাদান শনাক্ত করতে সক্ষম। অত্যন্ত কম সংখ্যক ভাইরাল নিউক্লিক অ্যাসিড (কম ভাইরাল আরএনএ) পাশাপাশি একক নিউক্লিয়োটাইড প্রকরণ শনাক্ত করতে পারে।
সার্স কোভ-২ ভাইরাস জেনোমিক সিকোয়েন্সকে চিহ্নিত করতেই ‘সিআরআইএসপিআর’ প্রযুক্তির এই পরীক্ষা করা হয়। ঠিক যেমন সাধারণ গর্ভাবস্থা পরীক্ষার (প্রেগনেন্সি কিট) ক্ষেত্রে দেখা যায়। প্রেগন্যান্সি স্ট্রিপের মতোই এ ক্ষেত্রেও করোনা উপস্থিত থাকলে এর রঙ পরিবর্তন হয়। ফলে করোনা শনাক্ত করার জন্য ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন পড়ে না।