বিরোধপূর্ণ নাগোরনো-কারাবাখ ঘিরে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার সংঘর্ষ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। সোমবার উভয়পক্ষের মধ্যেও ভয়াবহ লড়াই অব্যাহত রয়েছে। এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করা আর্মেনীয় বিদ্রোহীদের সরকার জানিয়েছে, তাদের আরও ২১ সেনা নিহত হয়েছে। সংঘাতে এখন পর্যন্ত নিহত সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৩ জন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
আর্মেনীয় বিদ্রোহীদের এক কর্মকর্তা জানান, সোমবার আজারবাইজানের গোলাবর্ষণ অব্যাহত ছিল। আজেরিদের হামলায় সেনা নিহতের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদেরও প্রাণহানি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নিহত বেসামরিকের সংখ্যা ১৮ জন।
আজারবাইজানের পক্ষ থেকে সেনা নিহতের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে তারা জানিয়েছে, তাদের অন্তত ২৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন নিহত হন আর্মেনীয় ভূখণ্ডে।
আট দিন আগে শুরু হওয়া এই সংঘাত ১৯৯০ দশকের সর্বাত্মক যুদ্ধের চেয়ে ভয়াবহ। ওই যুদ্ধে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
এর আগে রবিবার আর্মেনিয়ার সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক থাকা আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্ক চলমান সংঘাত অবসানে রাশিয়াসহ পশ্চিমাদের যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।
সংঘাতের শুরু থেকেই রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে। এমন অবস্থায় শুক্রবার (২ অক্টোবর) আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কাজ শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে তারা। তবে সংঘাতে আজারবাইজানকে সমর্থন জানানো তুরস্ক যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা আবারও দাবি করেছে, বিরোধপূর্ণ অঞ্চল থেকে আর্মেনিয়ার দখল ছেড়ে দিতে হবে।
উল্লেখ্য, আর্মেনিয়া সাবেক সোভিয়েত দেশগুলোর সামরিক জোটের সদস্য। এই জোটের নেতৃত্বে রয়েছে রাশিয়া। আর্মেনিয়ার সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক থাকা তুরস্ক আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। ইয়েরেভানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কারাবাখ সংঘাতে আজারবাইজানকে শক্তিশালী করতে উত্তর সিরিয়া থেকে ভাড়াটে সেনা পাঠিয়েছে তুরস্ক। তবে আঙ্কারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।