মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) আবারও সহিংসতা হয়েছে। এদিন দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মাউলামিনে শহরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত তিন জন। স্থানীয় এক রেডক্রস কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবরটি জানিয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে জান্তা সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমারে ব্যাপক বিক্ষোভ হচ্ছে। রাজপথে নেমে আসছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভ দমনে পুলিশও কঠোর হয়ে উঠতে শুরু করেছে। সেনা অভ্যুত্থানের দিনেই নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিসহ ঊর্ধ্বতন নেতাদের গ্রেফতারের পর বহু বিক্ষোভকারীকেও আটক করা হচ্ছে। ৯ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন শহরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভ ছেড়ে সরকারি কর্মীদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাং। তবে তাতেও থামছে না বিক্ষোভ।
মিন অং-এর আহ্বান উপেক্ষা করে শুক্রবার মাউলামিনে শহরে লাখো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। মিয়ানমার রেড ক্রসের কর্মকর্তা কিয়াও মিন্ত জানান, আহত তিন জনের একজনের তলপেটে গুলি লেগেছে। বাকি দুই জনের একজন গালে এবং অপরজন বাহুতে গুলিবিদ্ধ হয়। তবে এরপরও বিক্ষোভে আরও মানুষ যোগ দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। রেডিও ফ্রি এশিয়ার সম্প্রচার করা ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লাঠিচার্জ করছে। বিক্ষোভকারীরাও পাল্টা পুলিশের দিকে পাথর নিক্ষেপ করছে।
শুক্রবার ইয়াঙ্গুনে শত শত চিকিৎসক তাদের অ্যাপ্রন পরে শেডাগন প্যাগোডা অভিমুখে পদযাত্রা করেছে। শহরের আরেক অংশে ফুটবল ভক্তরা জার্সি পরে সামরিক জান্তার নিন্দা এবং ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেছে। এদিন রাজধানী নেপিডো, উপকূলীয় শহর দাওয়াই ও কাচিন রাজ্যের রাজধানী মিতকিনাতেও বিক্ষোভ হয়েছে। তরুণ বিক্ষোভকারীরা সেখানে র্যাপ সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেছে।