মিয়ানমারে অভ্যুত্থানবিরোধী প্রতিবাদকারীরা সেনাবাহিনীর 'ব্যবস্থা নেওয়ার' হুমকিকে উপেক্ষা করে সোমবার এযাবতকালের অন্যতম বৃহৎ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'বিক্ষোভকারীরা তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে'-সেনাবাহিনীর এমন হুমকির পর সহিংসতার আশংকা করা হলেও শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
গত পহেলা ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে প্রতিবাদ-সমাবেশ-বিক্ষোভ চলছে। ওই দিনই অং সান সুচি'র নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে তাকে গৃহবন্দী করা হয়। তার বিরুদ্ধে অবৈধ ওয়াকিটকি রাখা এবং দেশটির প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার যে ধর্মঘট ডাকা হয়েছিলো তাতে যোগ দিয়েছে সর্বস্তরের কর্মচারীরাও। বিক্ষোভকারীরা সামরিক শাসনের অবসান ও অং সান সুচিসহ এনএলডির অন্য আটক নেতাদের মুক্তি দাবি করে। ইয়াঙ্গুনের এক বিক্ষোভকারী ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, "আমরা জান্তা শাসন চাই না। আমরা গণতন্ত্র চাই। আমরা নিজেরা আমাদের ভবিষ্যৎ গড়তে চাই"।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রচার করা হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে, যেখানে বলা হয়েছে বিক্ষোভকারীরা মানুষকে সহিংসতার দিকে উস্কে দিচ্ছে বিশেষ করে তরুণ ও যুবকদের যা তাদের জীবন হারানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিবৃতিতে মানুষকে 'দাঙ্গা ও নৈরাজ্যে'র বিষয়ে সতর্ক করা হয়। তবে রাজধানী নেপিদোতে লাখো মানুষ সমাবেশে যোগ দেয় এবং পুলিশ অন্তত একশজনকে আটক করে। গণধর্মঘট কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়েছিলো ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও।
২২শে ফেব্রুয়ারিতে হওয়ায় সোমবারের কর্মসূচি পরিচিত পেয়েছে '২২২২২ বিপ্লব' হিসেবে। আর এটিকে তুলনা করা হচ্ছে ৮ অগাস্ট ১৯৮৮ সালে হওয়া মিয়ানমারের ইতিহাসে অন্যতম বড় বিক্ষোভ যেটি '৮৮৮৮বিক্ষোভ' হিসেবে পরিচিত। "আমরা প্রতিবাদে অংশ নিতে বেরিয়ে এসেছি, জয় না আসা পর্যন্ত লড়াই চলবে," বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন একজন প্রতিবাদকারী। "ক্র্যাকডাউন নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন, তবে আমরা এগিয়ে যাবো," বলেন তিনি।
স্থানীয় গণমাধ্যম ফ্রন্টিয়ারের সম্পাদক থম্পসন চৌ বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে বলছিলেন যে এবারের প্রতিবাদকে তুলনামূলক বড় মনে হয়েছে তার কাছে এবং দোকানপাট বন্ধ রাখার পাশাপাশি এসময় আরও বেশি সড়ক মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। ‘বড় ধর্মঘট হচ্ছে কারণ লোকজন কাজে যায়নি। দোকানপাটও বন্ধ। এমনকি সরকারি কোম্পানিতে যারা কাজ করেন তারা ছাড়াও সরকারি ডাক্তার ও প্রকৌশলীরাও ধর্মঘট পালন করেছে।’ বলেন থম্পসন।
এদিকে মিয়ানমারের উৎখাত হওয়া সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে সামরিক নেতাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অবিলম্বে দমন-পীড়ন বন্ধের আহবান জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়া, সহিংসতা বন্ধ করা, মানবাধিকারকে সম্মান করা এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখানোর আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "আধুনিক বিশ্বে সামরিক অভ্যুত্থানের জায়গা নেই"। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য অভ্যুত্থানের নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে তারাও মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেলদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে।