সেনাপ্রধানকে বরখাস্তের প্রশ্নে আর্মেনিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের মতভেদ চরমে

আর্মেনিয়ার রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রে থাকা সেনা প্রধানের বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাকে বরখাস্তের আদেশ দিলেও বুধবার তা কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে একই দিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধানকে বরখাস্তের আদেশের বৈধতা খতিয়ে দেখতে সাংবিধানিক আদালতে আবেদন করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আর্মেনিয়ার সেনাপ্রধানসহ একদল ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের পদত্যাগ দাবির পর দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। একপর্যায়ে সামরিক অভ্যুত্থানের ব্যাপারে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে সেনাপ্রধান অনিক গাসপারায়ানকে বরখাস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান। তবে দেশটির আইন অনুযায়ী ওই বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হতে প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে।

এর আগে দুইবার সেনাপ্রধানের বরখাস্তের আদেশ অনুমোদন করতে অস্বীকৃতি জানান আর্মেনিয়ার প্রেসিডেন্ট আরমেন সারকিসিয়ান। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সেনাপ্রধানের পদ থেকে গাসপারিয়ানের বরখাস্তের আদেশ ১০ মার্চ থেকে আইনগতভাবে কার্যকর হয়েছে।’ ওই বিবৃতিতে বলা হয়, আইনগতভাবে বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হয়েছে কারণ আইনি ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রেসিডেন্ট এতে স্বাক্ষর করেননি কিংবা আদালতেও যাননি। তবে পাশিনিয়ান সরকারের বিবৃতির পর রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে বলা হয় সেনাপ্রধান গাসপারিয়ানের বরখাস্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সাংবিধানিক আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কারাবাখ যুদ্ধে আজারবাইজানের কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান। ২০১৮ সালে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ভর করে ক্ষমতায় আসা এই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে। আবার তার সমর্থকরাও পাল্টা বিক্ষোভে রয়েছেন রাজপথে। পাল্টাপাল্টি এই বিক্ষোভের কারণে উদ্বেগ-উত্তেজনা থাকলেও এখনই পদত্যাগের কোনও পরিকল্পনা নেই পাশিনিয়ানের।