পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের প্রার্থী তালিকার নিরিখে দাগি প্রার্থীর সংখ্যা ৩৮, যারা কোনও না কোন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত। অপর দিকে, কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যায় এগিয়ে আছে শাসক দল তৃণমূল। প্রথম দফায় ভোটে দাঁড়ানো প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা থেকে এই তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ এবং এডিআর।
ভারতের প্রতিটি রাজ্যে লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের সময় প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা তথ্য বিচার বিশ্লেষণ করে সামনে আনার কাজ করে যাচ্ছে এডিআর সংস্থাটি। এবারও তারা পশ্চিমবঙ্গের ভোটে টিকিট পাওয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিচার বিশ্লেষণ করে পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা শুরু করেছে। সম্প্রতি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে প্রথম দফার প্রার্থী তালিকার তথ্য। এর মধ্যে প্রথম দফায় ৯৬ জন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ৫ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি। ৯২ জনের স্নাতক বা তার বেশি। ৩ জন প্রার্থী ডিপ্লোমা সম্পন্ন আছে।
৫০ জন প্রার্থীর গড় বয়স ২৫ থেকে ৪০ এর মধ্যে। ১০৯ জনের বয়স ৪১ থেকে ৬০ এর মধ্যে। আর ২৯ জনের ৬১ থেকে ৮০-র মধ্যে। এই দফার নারী প্রার্থীর সংখ্যা ২১ জন।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা প্রথম দফার ৩০ টি আসনে ১৯১ জন প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করে এডিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সব প্রধান রাজনৈতিক দলই ৩০ থেকে ৫৬ শতাংশ ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তদের প্রার্থী করেছে। ৪৮ জন (২৫ শতাংশ) প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা। এর মধ্যে আবার ৪২ জন (২২ শতাংশ) প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
সিপিএমের ১৮ জন প্রার্থীর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। ৯ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। বিজেপির ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং ১১ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তৃণমূলের ২৯ জন প্রার্থীদের মধ্যে ২ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ও ৮ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। কংগ্রেসের ছয় প্রার্থীর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং একজনের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। বিএসপির ১১ জনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এসইউসির ২৮ জনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং দুইজনের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের মামলা রয়েছে ১২ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এরমধ্যে একজন ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত। ৮ জন প্রার্থীর নামে খুনের অভিযোগ রয়েছে।
অপর দিকে সম্পদের হারে দুই কোটি রুপি বা তার বেশি সম্পদ আছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৭ জন। ৫০ লাখ থেকে ২ কোটির মধ্যে আছেন ৪০ জন। ১০ থেকে ৫০ লাখের মধ্যে রয়েছেন ৬৯ জন। ১০ লাখের কম সম্পদ রয়েছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৭৫ জন।
১৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে কোটিপতি রয়েছেন ১৯ জন। তৃণমূলের ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জন, বিজেপির ২৯ জনের মধ্যে ৪ জন, সিপিএমের ১৮ জনের মধ্যে ২ জন, কংগ্রেসের ৬ জনের মধ্যে ২ জন এবং বিএসপি ও এসইউসির ১ জন করে কোটিপতি প্রার্থী প্রথম দফায় রয়েছেন।
এই দফায় সবচেয়ে ধনী প্রার্থী বিজেপির পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের অম্বুজাক্ষ মহান্তি। তার স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৭০ লাখ ২১ হাজার ১১৪ রুপি। আবার সম্পদবিহীন প্রার্থীর সংখ্যা ৪ জন। এর মধ্যে দু’জন এসইউসির (বলরামপুরে দীপক কুমার ও জয়পুরে ভগীরথ মাহাত), দু’জন বিএসপির (বলরামপুরের অনাদি টুডু এবং পুরুলিয়ার মানস সর্দার)। সবচেয়ে কম সম্পদ রয়েছে, মানবাজারের এসইউসির স্বপন মুর্ম এবং ঝাড়গ্রামের একই দলের রাজীব মুদির। তাদের সম্পদের পরিমাণ মাত্র ৫০০ রুপি।
অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি আয়কর দিয়েছেন তৃণমূলের ৩ প্রার্থী। ভগবানপুরের অর্ধেন্দু মাইতি, খড়গপুরের দিনেন রায় এবং মেদিনীপুরের জুন মালিয়া। এই তালিকায় প্যান সংক্রান্ত তথ্য দেননি ১৩ জন।