একদিনে একশ’ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার দিনে জমকালো ডিনার পার্টি আয়োজন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অভ্যুত্থানের নেতারা লাল কার্পেটের ওপর দিয়ে অভ্যাগত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। এই আয়োজনের কারণে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশটির সেনা কর্মকর্তারা। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা সু চির মুক্তির পাশাপাশি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। এসব বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৪০০ জনের কাছাকাছি। শনিবার ছিল মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী দিবস। এদিন বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১১৪ জন নিহত হয়।
রাজপথে বিপুল পরিমাণ রক্তক্ষয়ের পর রাতে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে জমকালো ডিনার পার্টিতে সমবেত হন সেনা কর্মকর্তারা। সেনা কর্মকর্তাদের এই আচরণের নিন্দা জানিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন কথা বলে উঠেছে। জাতিসংঘের বেশ কয়েক জন কর্মকর্তাও মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডকে হত্যাযজ্ঞ, গণ খুন, লজ্জাজনক, নৃশংস বলে আখ্যা দিয়েছেন।
গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যালিস ওয়েইরিমু এনদেরিতু এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অবিলম্বে হত্যাকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে প্রাণঘাতী ও ব্যাপক অভিযান চালানোর নিন্দা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
তবে পশ্চিমা কয়েকটি দেশের সরকার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সমালোচনা এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও বলপ্রয়োগ থেকে বিরত রাখতে পারেনি। দেশটির অধিকার রক্ষা গ্রুপ অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স জানিয়েছে, অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪৬২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।