আফগানিস্তান থেকে সামরিক উপস্থিতি সরিয়ে নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরইমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছেন, ৯/১১ হামলার ২০তম বার্ষিকীতে এই সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ন্যাটো বাহিনীও দেশটি ছেড়ে যাবে। অন্যদিকে পশ্চিমা বাহিনী চলে যাওয়ার পর দেশটির সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে নানা মহল থেকে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে আফগানিস্তানে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নিজ দেশের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার আফগানিস্তানের বেশ কিছু অংশে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর অধিক সংখ্যক হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে স্থিতাবস্থা (মার্কিন বাহিনীর আফগানিস্তানে অবস্থান) কোনও সাহায্য করবে না। এটি কোনও বিকল্প নয়।
এমন সময়ে ব্লিনকেন এ মন্তব্য করলেন যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। গত মাসে তালেবান আফগানিস্তানের অর্ধশতাধিক জেলার দখল নেওয়ার ঘটনায় কপালে ভাঁজ পড়ে আশরাফ ঘানি সরকারের। সম্প্রতি শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে হোয়াইট হাউজের সঙ্গে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে পৌঁছান তিনি।
প্যারিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন বাহিনীর আফগানিস্তান ত্যাগের ওপর জোর দিলেও তালেবানের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন অ্যান্টনি ব্লিনকেন। তিনি স্বীকার করেছেন, এসব সহিংসতা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সঙ্গে পুরোপুরি বেমানান। এটি একটি সত্যিকারের বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে কিংবা হয়তো আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।
বিদ্যমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ব্যাপারে তালেবান আদৌ সিরিয়াস কিনা; যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে সেটি পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান অ্যান্টনি ব্লিনকেন। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।