পাকিস্তানে ৮ বছরের শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা

পাকিস্তানে আট বছরের এক হিন্দু ছেলেকে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পুলিশের কাস্টডিতে নেওয়া হয়েছে। এটি দেশটির ইতিহাসে ধর্ম অবমাননায় সবচেয়ে কমবয়সীর বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা। সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এখবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই পাঞ্জাবের রক্ষণশীল রহিম ইয়ার খান এলাকায় লুকিয়ে থাকছে। গত সপ্তাহে একদল মুসলিম স্থানীয় একটি হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুরের পর তারা নিজ বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন। ছেলেটি জামিনে মুক্তি পাওয়ার ঘটনায় মন্দির ভাঙচুর করা হয়। উত্তেজনা নিরসন ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মন্দিরে হামলার ঘটনায় শনিবার অন্তত ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

৮ বছরের ছেলেটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত মাসে সে ইচ্ছাকৃতভাবে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার কার্পেটে মূত্রত্যাগ করেছে। পাকিস্তানের আইন অনুসারে, ইসলাম ধর্ম অবমাননার সাজা মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।

অজ্ঞাত অবস্থান থেকে ছেলেটির পরিবারের এক সদস্য বলেন, সে ধর্ম অবমাননার বিষয় সম্পর্কে জানেই না। তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। সে এখনও জানেই না কোনটা ভুল আর সঠিক এবং কেন তাকে এক সপ্তাহ ধরে কারাগারে রাখা রয়েছে।

শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলায় অবাক হয়েছেন দেশটির আইন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এই ঘটনা নজিরবিহীন। পাকিস্তানে এই বয়সের কেউ কখনও এমন অভিযোগে অভিযুক্ত হয়নি।

পাকিস্তান হিন্দু কাউন্সিলের প্রধান ও একজন আইনপ্রণেতা রমেশ কুমার বলেন, মন্দিরে হামলা ও শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা আমাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। হামলার ভয়ে শতাধিক হিন্দু পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে গেছে।

মানবাধিকারকর্মী কপিল দেব বলেন, আমি অবিলম্বে শিশুটির বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।