তালেবানের হাতে আটক সাবেক মুজাহিদ কমান্ডার ইসমাইল খান

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহর থেকে সাবেক মুজাহিদ নেতা ও শহরটির সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ইসমাইল খান ও কয়েকজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে আটক করেছে তালেবান। শুক্রবার এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, মোহাম্মদ ইসমাইল খানের পাশাপাশি আফগানিস্তানের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুর রহমান, সেনাবাহিনীর ‘জাফর’ ব্রিগেডের কমান্ডার জেনারেল নবী আহমাদজাই, হেরাতের গভর্নর আব্দুস সবুর কানে এবং হেরাতের পুলিশ প্রধান হাসিব সিদ্দিকি তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের এই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে তাদের সঙ্গে সদাচরণ করা হবে এবং তারা তাদের সম্মানজনক জীবনে ফিরে যেতে পারবেন।

এসব কর্মকর্তা গত কয়েকদিন ধরে হেরাতের পতন ঠেকাতে সেনাবাহিনী ও গণবাহিনীর প্রতিরোধ লড়াই পরিচালনা করছিলেন।

আফগানিস্তানের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে মোহাম্মদ ইসমাইল খান একটি গাড়ির মধ্যে বসে আছেন এবং তার দু’পাশে অস্ত্রধারী দুজন তালেবান তাকে পাহারা দিচ্ছে।

তালেবানের অনুমতি নিয়ে এ সময় এক সাক্ষাৎকারে ইসমাইল খান বলেন, তালেবানকে এমন আচরণ করতে হবে, যাতে আফগানিস্তানের জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে ও সচ্ছল জীবনযাপন করতে পারেন।

আটকের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ইসমাইল খান বলেন, হঠাৎ করে এ ঘটনা ঘটে গেছে বলে আপাতত কিছু বলতে পারছি না। তবে তালেবানের হাতে বন্দি অবস্থায় তার এ সাক্ষাৎকারটি কোন পরিস্থিতিতে নেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

গত কয়েক দিন ধরে হেরাত দখল করার জন্য তালেবান বহুবার প্রচেষ্টা চালালেও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কমান্ডার ইসমাইল খানের নেতৃত্বাধীন গণবাহিনীর প্রতিরোধের মুখে তারা ব্যর্থ হয়। আফগানিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হেরাত প্রদেশটির সঙ্গে ইরানের সীমান্ত রয়েছে।

ইসমাইল খান আফগানিস্তানে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা একজন সাবেক মুজাহিদ কমান্ডার। গত ২০ বছর আফগানিস্তানে মার্কিন দখলদারিত্বের সময় তিনি অনেকটা নিষ্ক্রিয় ছিলেন। সূত্র: পার্স টুডে