কাবুল বিমানবন্দরের কাছে রবিবার আইএস সদস্য বহনকারী একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, এর মাধ্যমে বিমানবন্দরে আরেকটি আত্মঘাতী হামলা ঠেকানো হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে দিয়েছিল যে, কাবুল বিমানবন্দরে আরেকটি সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে বলে তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় তালেবানের পক্ষ থেকেও এয়ারপোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
এর আগে গত ২৬ আগস্ট কাবুল বিমানবন্দরে আইএসের আত্মঘাতী হামলায় ১৩ মার্কিন সেনাসহ অন্তত ১৭০ জন নিহত হয়।
মার্কিন কেন্দ্রীয় কমাণ্ডের ক্যাপ্টেন বিল আরবান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি 'আসন্ন হুমকি' নির্মূল করতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আমরা নিশ্চিত, আমরা সফলভাবেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছি।
তিনি বলেন, ‘যে গাড়িকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা হয়েছে সেটিতে দ্বিতীয় একটি বিস্ফোরণ ঘটে যা ইঙ্গিত দিচ্ছে সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিস্ফোরক রাখা ছিল।
ক্যাপ্টেন বিল আরবান বলেন, কেন্দ্রীয় কমাণ্ড সেখানে বেসামরিক হতাহতের খবর সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রয়েছে। তবে আমরা তদন্ত করছি। নিরীহ মানুষের প্রাণহানি হলে কেন্দ্রীয় কমাণ্ড গভীর দুঃখ পাবে।
এর আগে বিভিন্ন সূত্রের খবরে বলা হয়েছিল, কাবুলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কোন কোন সূত্র এটিকে একটি রকেট হামলা বলে বর্ণনা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এয়ারপোর্টের কাছে একটি বাড়িতে রকেট হামলায় এক শিশু নিহত হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা কিছু ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সেখান থেকে ধোঁয়া উঠছে আকাশে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, সেখানে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে কিভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা পরিস্কার নয়।
বিবিসির সাংবাদিক সেকান্দার কেরমানি বলছেন, একটি সূত্র তাকে জানিয়েছে, এটি হয়তো একটি রকেট হামলা ছিল এবং এই রকেট এয়ারপোর্টের কাছে একটি বাড়িতে আঘাত করেছে, বিমানবন্দরে নয়।
বিমানবন্দরের কাছে শোনা বিস্ফোরণের সঙ্গে মার্কিন ড্রোন হামলার কোনও সম্পর্ক আছে কিনা সেটা পরিস্কার নয়। তাছাড়া কাবুলে এখন আর খুব বেশি বিদেশি সাংবাদিক নেই। সূত্র: বিবিসি।