৩০ আগস্ট দিবাগত রাতে আফগানিস্তান ছেড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের শেষ সামরিক বিমান। মার্কিন বাহিনীর এমন প্রস্থানকে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তালেবান। দলটি বলছে, এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দখলদারিত্বের অবসান ঘটেছে। আফগানিস্তান পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শেষ সামরিক বিমানটি আফগানিস্তান ত্যাগের পর উদযাপনে মেতে উঠে তালেবান। মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার পরপরই বিমানবন্দরে প্রবেশ করে দলটির যোদ্ধারা। এ সময় সেখানে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে তারা। অনেককে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলতে শোনা যায়। বিমানবন্দরের বাইরেও কাবুলের বিভিন্ন স্থানে তালেবান সদস্যদের বিজয় উদযাপন করতে দেখা গেছে। সর্বত্র যেন উৎসবের আমেজ।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব পেয়েছে তালেবানের বদরি ৩১৩ ব্রিগেড। অত্যাধুনিক বন্দুক, হেলমেটে নাইট ভিশন ক্যামেরা নিয়ে একেবারে সামরিক কায়দায় তল্লাশি চালায় তারা। আফগান বাহিনীর বিমানের ককপিঠে উঠেও এক্সপেরিমেন্ট চালায় তারা।
লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস-এর একজন সাংবাদিক তালেবান যোদ্ধাদের সেই তল্লাশি অভিযানের ভিডিও শেয়ার করেছেন টুইটারে। এতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে সামরিক পোশাকে বেশ কয়েকজন তালেবান যোদ্ধা ঢুকে পড়ে বিমানবন্দর চত্বরে। সেখানে মার্কিন বাহিনীর রাখা একটি চিনুক হেলিকপ্টার ভালোভাবে খতিয়ে দেখে তারা।
মার্কিন বাহিনী বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়া ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই এয়ারপোর্টের রানওয়েতে পৌঁছান দলের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ।
জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘আফগানিস্তানকে অভিনন্দন। এই বিজয় আমাদের সবার। আমরা যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো দুনিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাই। সবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী।’
তালেবানের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা হেকমতুল্লাহ ওয়াসিক বলেন, অবশেষে আফগানিস্তান মুক্ত হয়েছে। বিমানবন্দর আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সর্বত্র শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
২০০১ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী। একই বছরের নভেম্বরে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় মার্কিন জোট সমর্থিত তালেবান বিরোধী বাহিনী নর্দার্ন অ্যালায়েন্স। সর্বশেষ ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট প্রায় বিনা বাধায় মার্কিন সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান।