আফগানিস্তানে বোরকা ও হিজাবের বিক্রি বেড়েছে

আফগানিস্তানে বেড়েছে বোরকা ও হিজাব বিক্রি। তালেবানরা দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নারীদের কাজ ও শিক্ষার জন্য বোরকা ও হিজাব পরতে বলার পর এই প্রবণতা দেখা দিয়েছে। রুশ সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক নিউজের এক প্রতিনিধি রবিবার এই তথ্য জানিয়েছেন।

খবরে বলা হয়েছে, তালেবানের প্রথম শাসনামলে বোরকা না পরায় নারীদের খুঁজে বের করা হত। বোরকা না পরা অবস্থায় যেখানেই নারীদের দেখতে পেত তালেবান যোদ্ধারা মারধর করত। এই ভয় থেকেই নারীরা বোরকা ও হিজাব কিনে পরতে শুরু করেছেন। তবে এবার এখন পর্যন্ত এমন কোনও ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কাবুলের বাজার করতে আসা ৭০ শতাংশ নারী বোরকা ও হিসাব পরছেন না বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এই সপ্তাহের শুরুতে তালেবান ঘোষণা দেয়, কাজ ও শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে হিজাব বা বোরকা পরা বাধ্যতামূলক। এমন ঘোষণার পর বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি এসবের দামও বাড়তে শুরু করেছে। হিজাবের দাম ৯০০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫০০ আফগানি মুদ্রা হয়েছে।

৫০ বছর বয়স্ক এক নারী স্পুটনিককে জানান, বোরকার খুঁজে তিনি কাবুলের আহমদ শাহ বাবা মিনা বাজার গিয়েছেন। আগের তালেবান শাসনের সময়ও তিনি বোরকা কিনেছেন। তার কথায়, আজ আমি দুই মেয়ের জন্য হিজাব বা চাদর কিনতে এসেছি।

হিজাব ও চাদরের এক দোকানদার রশিদ আহমদ হিজাব ও বোরকার বিক্রি বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

একই খবরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক নারী কোনও পরিস্থিতিতেই বোরকা বা হিজাব পরতে প্রস্তুত না বলে জানিয়েছে।

কাবুল দখলের পর তালেবান বারবার বলে আসছে যে, তারা নারীদের বোরকা বা হিজাব পরতে বাধ্য করবে না। কিন্তু তারা বলেছে, নারীদের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়াহ আইন মেনে চলতে হবে। তাদের এই আশ্বাসের পরও আফগান নারীরা বেশ কয়েকবার শিক্ষা, কাজ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য রাজপথে নেমেছে।