পাকিস্তানি তালেবানকে বাগে আনতে চান ইমরান খান

আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের সফল প্রচেষ্টায় উদ্দীপ্ত পাকিস্তানের নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ওপরও হামলা চালাচ্ছে দলটি। এদের বাগে আনতে আফগানিস্তানে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

তুরস্কের টেলিভিশন চ্যানেল টিআরটি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খান জানান, আফগানিস্তানের ভেতরে টিটিপি‌র সঙ্গে এই আলোচনা চলছে এবং আফগান তালেবান এতে মধ্যস্থতা করছে। তবে ইসলামাবাদ কোনও সামরিক পন্থায় বিষয়টি মীমাংসা করতে চায় না।

আফগানিস্তানের মতোই টিটিপি পাকিস্তানে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সংগঠনটি আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী পাকিস্তানি ভূখণ্ডে তৎপর এবং বিশেষভাবে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের উপজাতীয় এলাকাগুলো থেকে তারা পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে ইমরান খান বলেছেন, টিটিপি যদি আত্মসমর্পণ করে তাহলে পাকিস্তান সরকার তাদের অতীতের অপরাধ ক্ষমা করে দিতে প্রস্তুত। তবে শান্তি আলোচনা কোন দিকে গড়াতে পারে তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

টিটিপি অবশ্য পাকিস্তান সরকারের ক্ষমা ঘোষণার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। আলোচনার জন্য তারা কিছু শর্ত আরোপ করেছে।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন খবর দিয়েছে, সীমান্তবর্তী দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের একটি উপজাতীয় জেলায় টিটিপি-র সঙ্গে সরকারের গোপন যোগাযোগ শুরু হয়েছে সপ্তাহ দুয়েক আগে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (ফজল)-এর সিনেটর সালি শাহ দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ রাখছেন।

টিটিপি মূলত পাঠান মাদ্রসা ছাত্রদের বিভিন্ন সংগঠনের একটি জোট। ২০০৭ সালে বাইতুল্লাহ মেহ্সুদের নেতৃত্বে ১৩টি সংগঠন মিলে এটি গঠিত হয়। জোট গঠনের পর থেকেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল শুরু হয় এবং এর জেরে বেশ কয়েকটি উপদল তৈরি হয়। তবে ২০২০ সালে টিটিপি আবার ঐক্যবদ্ধ হয়। এরপর থেকে তারা পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকটি মারাত্মক হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ সালে কোয়েটার সিভিল হাসপাতালে বোমা হামলায় ৭০ জন নিহত হয়। ২০১৭ সালে লাহোর শহরে পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলির বাইরে দলটির আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয় ১০ জন। কিন্তু টিটিপির বিরুদ্ধে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান শুরু হলে এর বহু সদস্য নিহত হয়। কিছু সংখ্যক সীমান্ত অতিক্রম করে আফগানিস্তানে পালিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টিটিপি-র সদস্য সংখ্যা তিন থেকে চার হাজার। সূত্র: বিবিসি।