ক্যাশ এয়ারলিফটের মাধ্যমে আফগান নাগরিকদের সহায়তার পরিকল্পনা করছে পশ্চিমা দাতা দেশগুলো। তালেবানকে পাশ কাটিয়ে আফগানদের সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই এমন চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
গোপনীয় এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, হতাশ আফগানদের খাবার কেনার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তালেবান সরকারকে এড়িয়ে সাধারণ মানুষকে অর্থ সহায়তা দিতে ক্যাশ এয়ারলিফট একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। এমন চিন্তা থেকেই গরিব মানুষকে সহায়তা দিতে এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এ সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ নীতির নথিপত্র রয়টার্সের হাতে পৌঁছেছে। এতে দেখা গেছে, আফগানিস্তানের অর্থনীতি দ্রুত ভেঙে পড়ার পটভূমিতে দরিদ্র এলাকাগুলোতে এই নগদ এয়ারলিফটের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এর বিনিময়ে তালেবানের কাছ থেকে কী সুবিধা আদায় করা যায় সেটি নিয়ে এখনও কূটনীতিকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি তহবিল, খরা ও রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মুখে মানবিক সংকট এড়ানোর লক্ষ্যে মার্কিন ডলারের বিলগুলো কাবুলে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমেও বিতরণ করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে গরিব মানুষকে সরাসরি অনূর্ধ্ব ২০০ ডলার পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে।
পশ্চিমা দেশগুলো চাইছে, এই প্রক্রিয়ায় তালেবানের কোনও সংশ্লিষ্টতা থাকবে না, তবে পুরো বিষয়টির প্রতি যেন তাদের সমর্থন থাকে।
দুই জন সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় দাতা দেশগুলো একটি ‘হিউম্যানিটেরিয়ান প্লাস’ ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যা বেতনের ব্যবস্থা করবে এবং স্কুল ও হাসপাতালগুলো খোলা রাখবে।
এদিকে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ ফেরত দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তালেবান। শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় উভয়পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তালেবানের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।