সুবিশাল অট্টালিকায় ঘেরা সিঙ্গাপুর। অথচ যেই সিঙ্গাপুরেরই একজন গত ৩০ বছর ধরে জঙ্গলে বসবাস করেছেন। নিজের কোনও বাসা না থাকার কারণ এতটা বছর এভাবেই কেটেছে তার।
চলতি মাসের শুরুতে ৭৯ বছর বয়সী বৃদ্ধ ওহোর গল্পটা ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কীভাবে এতটা বছর জঙ্গলে কাটালেন, অবাক হওয়া হয়েছেন অনেকে।
ঘটনাটি সামনে আসে তখনই, বড় দিনে তিনি রাস্তার পাশে লাইসেন্স ছাড়াই নিজের চাষ করা শাক-সবজি বিক্রি করছিলেন। এ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিক্রি করতে আনা সব সবজি জব্দ করে ওই কর্মকর্তা। পাশ দিয়ে যাওয়া এক দাতব্য কর্মী ভিভিয়ান প্যানের নজরে আসে বিষয়টি। তিনি বলেন, ঘটনাটি দেখে আমরা খুব রাগ হয়েছিল। আমি চাইনি বৃদ্ধ লোকটি এভাবে খালি হাতে ফিরে যাক। অবশ্য আইন অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া তিনি পথে বিক্রি করতে পারেন না। তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, মহামারীর শুরুর দিকে বাজারে ফুল বিক্রির চাকরি হারান ওহো। ঘটনাটি পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেন। দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
ওহো তার পরিবারের সঙ্গে সুঙ্গেই তেঙ্গার স্থানীয় একটি ক্যাম্প অথবা গ্রামে বড় হয়েছেন। কিন্তু ১৯৮০ দশকে উঁচু ভবন নির্মাণের জন্য উচ্ছেদ করা হয়। দেশটির সাংসদ লিয়াং এং হুয়া জানতে পারেন, বৃদ্ধ ওহোর স্ত্রী-কন্যারা পাড়ি জমিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ায়। সিঙ্গাপুরে আর কেউই থাকেন না। সিঙ্গাপুর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ওহোর মেয়ে বলেন, ‘আমরা বাবার কোনও খবর জানতাম না। তিনি কোথায় থাকতেন তাও জানা ছিল না।’
সংসদ লিয়াং এং হুয়া ওহোর জন্য নতুন সুসজ্জিত একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিয়েছেন। ওহো এখন গাড়ি চালক হিসেবে কাজ করছেন। মাঝে মাঝে বাগানও পরিচর্যা করেন।
সূত্র: বিবিসি।