নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চি’ই হতে যাচ্ছেন দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট! এমনটাই খবর দিচ্ছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো। এমন খবরে সু চি’র দল এনএলডি’র নেতারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, টেলিভিশনের সংক্ষিপ্ত খবরের ওপর ভিত্তি করে এখনও এটা নিশ্চিত করে বলার সময় আসেনি।
মিয়ানমারের সরকার সমর্থক দুটি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইতিবাচক আলাপ আলোচনার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হতে পারেন সু চি। সেনাপ্রধানের সঙ্গে সু চি’র আলোচনা থেকে একটি ‘ইতিবাচক ফল’ আসতে পারে। এই আলোচনা সফল হলে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে সু চি’র ওপর থাকা আইনি বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, সংবিধানের এ সংক্রান্ত ধারাটি (৫৯-এফ) বিলুপ্ত করা হতে পারে।
গত ৮ নভেম্বর মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে ৮০ শতাংশ আসনে জয় পায় অং সান সুচি’র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। ১ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে দেশটির নতুন পার্লামেন্ট। ৬৬৪ আসনের পার্লামেন্টে মোট নির্বাচিত এমপির সংখ্যা ৪৯১। এর মধ্যে সু চি’র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) থেকে থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৩৯০ জন।
নতুন পার্লামেন্টের বড় কাজ হবে একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা। যিনি আগামী ৫ বছর দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হবেন। পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে সু চি’র আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, কোনও বিদেশিকে বিয়ে করলে বা সন্তানদের কেউ অন্য দেশের নাগরিক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। সু চি’র স্বামী মাইকেল অ্যারিস ছিলেন একজন ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ। তার দুই সন্তানও ব্রিটিশ নাগরিক।
মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের কমান্ডার ইন চিফ মিন অং লাইং-এর সঙ্গে বর্তমানে সংবিধানের ওই ধারাটি স্থগিত করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন সু চি। আইনি প্রক্রিয়ায় ওই ধারাটি বাতিলে পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন লাগবে। কিন্তু মিয়ানমারের পার্লামেন্টে সেনাবাহিনীর জন্য ২৫ শতাংশ আসন বরাদ্দ রয়েছে। এর ফলে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সেনাবাহিনীর সমর্থন ছাড়া সু চি’র দল এনএলডি’র পক্ষে এককভাবে ওই বিধান পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
এনএলডি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কিয়াউ হুয়ে এমপি বলেন, ‘আমার মনে হয় সবকিছু ঠিকঠাক মতোই হবে। এই আলোচনা আমাদের নেত্রী অং সান সু চি’র প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে একটা ইতিবাচক ফল নিয়ে আসবে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান মিয়ো থেইন অবশ্য বিষয়টিকে কিছুটা সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘সু চি’র প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার সময় এখনও আসেনি। এ ধরনের একটা ধারণা থাকলেও সংবিধান সংশোধনে সময় লাগবে। আমরা টেলিভিশনের সংক্ষিপ্ত ঘোষণার ওপর ভরসা রাখতে পারি না।’
এর আগে সু চি বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হতে না পারলেও নেপথ্যে থেকে তিনিই দেশ পরিচালনা করবেন। তবে সু চি’র নিজ দল এনএলডি চাইছে ৭০ বছরের সু চি যেন সামনে থেকেই সরকার পরিচালনা করেন। জীবনের একটা বড় সময় ধরেই গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা এ নেত্রীকেই প্রেসিডেন্টের আসনে দেখতে চান তারা।
শুক্রবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সেনাসমর্থিত রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতা শুয়ে ম্যান-এর নেতৃত্বে একটি লিগ্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটি গঠিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সু চি’র প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তার সমাধানে তিনি উদ্যোগ নেবেন।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট থিন সেইন আগামী মার্চের শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। এরপরই দায়িত্ব নেবেন এমপিদের ভোটে নির্বাচিত নতুন প্রেসিডেন্ট। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এমপি/বিএ/