জোটের সদস্য না হলেও এবার জাপানের হিরোশিমায় শুরু হওয়া জি-৭ সম্মেলনে যোগদান করতে পারেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি ঠেকাতে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সশরীরে সম্মেলনে হাজির হয়ে আলোচনা করবেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, সম্মেলনে রবিবার থেকে যোগ দেবেন তিনি। সম্মেলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মূলত জি-৭ হলো অর্থনীতিতে শীর্ষ শক্তিধর ৭ দেশের একটি জোট। জোটটির সদস্য রাষ্ট্রগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা ও ইতালি। সদস্য না হলেও সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন দেশকে অংশগ্রহণে আমন্ত্রণ করে জোটটি।
সম্মেলনে জেলেনস্কির উপস্থিতি রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে বেশি গুরুত্ব সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন অনেকে। রাশিয়ার ওপর বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশগুলোর সৃষ্ট চাপ সৃষ্টি হলে তা কার্যকর করাকে অসম্ভব মনে করছেন না তারা।
সম্মেলনের প্রথম দিনে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপে একমত হয়েছেন নেতারা। ধারণা করা হচ্ছে, ক্রমবর্ধমান চীনা হুমকি মোকাবিলা নিয়ে বাস্তবসম্মত আলোচনা করবেন তারা।
ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব ওলেক্সি ড্যানিলোভ বলেন, ‘সেখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে সেখানে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির উপস্থিতি জরুরি।’
শনিবারের মধ্যে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জাপানে পৌঁছে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট শুক্রবার সৌদি আরবে আরব লিগের সম্মেলনে ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি প্রভাবশালী সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।
ইতোমধ্যে ব্রিটেন জানিয়েছে, রুশ হিরা ও কপার, অ্যালুমিনিয়াম, নিকেলসহ ধাতব পদার্থ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে দেশটি। রুশ হিরা আমদানি ও বিক্রয়ে বিধি-নিষেধ জারি করবে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল। রাশিয়ার আরও ৭০ টি প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে বলে জানিয়েছেন এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা।
সূত্র: রয়টার্স