যুক্তরাষ্ট্রের চিপ জায়ান্ট কোম্পানি মাইক্রোন টেকনোলজিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে চীন। বেইজিংয়ের সাইবার স্পেস নিয়ন্ত্রক রবিবার (২১ মে) মাইক্রোনকে চীনের ‘নেটওয়ার্ক নিরপত্তায় গুরুতর ঝুঁকি’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে কোম্পানিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এক প্রতিবেদনে সোমবার (২২ মে) বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে চীনের সাইবারস্পেস প্রশাসন (সিএসি) জানায়, ‘পর্যালোচনায় দেখা গেছে মাইক্রোন কোম্পানির পণ্য নেটওয়ার্ক নিরাপত্তায় গুরুতর ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। ফলে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।’
অর্থাৎ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশে আর বাণিজ্য করতে পারবে না এই চিপ জায়ান্ট কোম্পানিটি। বেইজিং-ওয়াশিংটন উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পর এটিই মার্কিন কোনও চিপ কোম্পানির বিরুদ্ধে চীনের নেওয়া বড় ধরনের পদক্ষেপ ।
তবে ঝুঁকি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি চীন। এ বিষয়ে মাইক্রোন কোম্পানির এক মুখপাত্র বলেন, ‘চীনের নিষেধাজ্ঞার নোটিশ পেয়েছি আমরা। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি আমরা। চীনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাতে আশাবাদী আমরা।’
বহু দিন ধরেই চলছে মার্কিন-চীন চিপ যুদ্ধ। শুরুটা হয়েছিল যখন চীনা চিপ কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নিজেদের সেমিকন্ডাকটর শিল্পে বিপুল বিনিয়োগ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
চীনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের মুখপাত্র বলেন, ‘এমন ভিত্তিহীন নিষেধাজ্ঞার দৃঢ় প্রতিবাদ জানাই আমরা।’
রবিবার হিরোশিমায় জি-৭ সম্মেলনে চীনের বিরুদ্ধে ‘একচেটিয়া ব্যবসা’ ধরে রাখার অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ। এছাড়া দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ানে সামরিক তৎপরতার বিষয়ে চীনকে সতর্কবার্তা জানিয়েছিল জোটটি। সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছিল মার্কিন চিপ জায়ান্ট এই মাইক্রোন কোম্পানিও।
কিছু দিন আগেই চীনের জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্য। গভর্নর গ্রেগ জিয়ানফোর্ট বুধবার এই নিষেধাজ্ঞায় সই করেছেন। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে পারে নিষেধাজ্ঞা।
সুত্র: বিবিসি