শ্রীলঙ্কায় নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন জনগণ। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের পর অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম নির্বাচন এটি। স্থানীয় সময় শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাতটায় শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। শেষ হবে বিকেল চারটায়। ভোট দিচ্ছেন এক কোটি ৭০ লাখের বেশি ভোটার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
২০২২ সালে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে গণবিক্ষোভের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। এরপর প্রথমবারের মতো নতুন নেতা বাছাইয়ে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। তাই এই ভোটকে মূলত দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর একটি গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার লক্ষ্য হলো দেশকে পুনরুদ্ধারের পথে নিয়ে যাওয়া।
নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন মোট ৩৯ প্রার্থী। অবশ্য নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পর এক প্রার্থী মারা যান। শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে এই প্রথম কোনও নির্বাচনে এত বেশি সংখ্যক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বতায় চার প্রার্থী বেশি আলোচনায় রয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। রাজাপাকসে ক্ষমতা ছাড়ার এক সপ্তাহ পর পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান তিনি। ৭৫ বছর বয়সী বিক্রমাসিংহে এর আগেও দুবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যান। এবার তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে লড়াইয়ের সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
আরেক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন বামপন্থী জাতীয় পিপলস পার্টি জোটের প্রার্থী অনুরা কুমারা দিসানায়েক। দুর্নীতিবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।
শক্ত অবস্থানে আছেন বিরোধী দল সঙ্গী জন বালাওয়েগার (এসজেবি) নেতা সাজিথ প্রেমাদাসাও। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট রানাসিংহে প্রমাদাসার ছেলে। রানাসিংহে ১৯৯৩ সালে গৃহযুদ্ধের সময় আততায়ীর হাতে নিহত হন।
এবারের প্রসিডেন্ট নির্বাচনে রাজাপাকসে পরিবার থেকে প্রার্থী হয়েছেন নমল রাজাপাকসে। তিনি মাহিন্দা রাজাপাকসের ছেলে। মাহিন্দা ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে তার চাচা। ৩৮ বছর বয়সী নমল লড়ছেন শ্রীলঙ্কান পদুজন পেরামুনা (এসএলপিপি) দল থেকে। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা তার আরেক চাচা বাসিল রাজাপাকসে। রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসা হলেও, নমলকে এমন ভোটারদের সমর্থন পেতে হবে যারা তার পরিবারকে অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দায়ী মনে করেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নতুন আইন অনুযায়ী, একজন ভোটার তিন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। কোনো একজন প্রার্থী কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বা এর চেয়ে বেশি ভোট পেলে, তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। আর কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পেলে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফা ভোট হবে।
ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে গত বুধবার মধ্যরাতে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়। আনুষ্ঠানিক ফলাফল পাওয়ার জন্য রবিবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।