উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারকে ‘সুন্দর জীবন’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নিহতদের ‘শহীদ’ আখ্যা দিয়ে তিনি তাদের বীরত্বের প্রশংসা করেন। শনিবার (৩০ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-এর বরাতে রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার নিহত সেনাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতে কিম বলেন, তাদের মূল্যবান জীবন রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।
তিনি নিহতদের পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের বিশ্বের সবচেয়ে দৃঢ়, দেশপ্রেমিক ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন।
কিম বলেন, তারা আমাকে একটি চিঠিও লেখেননি। তবে আমি মনে করি, তারা তাদের প্রিয় সন্তান ও পরিবারকে আমার কাছে অর্পণ করেছেন।
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে রক্ষিত এই দেশে আপনাদের জন্য সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা হবে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে দেখা গেছে, নিহতদের পরিবারকে সামনে রেখে কিম গভীরভাবে নতজানু হয়ে সম্মান জানান। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
লভিভ অঞ্চলে উত্তর কোরীয় সেনাদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পর নিহতদের পরিবারকে সম্মান জানাতে এ আয়োজন করা হয়। এপ্রিল মাসে কিম ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার কুর্স্ক সীমান্তে উত্তর কোরীয় সেনাদের মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেন।
শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ২৫ মিনিটের এক প্রামাণ্যচিত্রে ‘অপারেশন কুর্স্ক লিবারেশন’–এ অংশ নেওয়া উত্তর কোরীয় সেনাদের যুদ্ধের দৃশ্য দেখানো হয়। তবে ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
কেসিএনএ জানায়, কিম গত বছরের আগস্টে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেন। তার দুই মাস আগে পুতিনের সঙ্গে করা নিরাপত্তা চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আগামী সপ্তাহে চীনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়ার সময় কিম আবারও পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এটি দুই বছরের মধ্যে তাদের তৃতীয় বৈঠক হতে যাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত সেনা মোতায়েনের সংখ্যা বা নিহতের সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি পিয়ংইয়ং বা মস্কো। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, প্রায় ১৫ হাজার সেনার মধ্যে অন্তত ৬০০ জন নিহত হয়েছে। পশ্চিমা গোয়েন্দারা নিহত ও আহত মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি বলে অনুমান করছে।