ছন্দে ফিরছে নেপাল, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত

জেন-জিদের নেতৃত্বে আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নেপালের পর্যটন খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।  সেপ্টেম্বরের শুরুতে অস্থিরতায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যাবল কার ও বিমানবন্দরসহ এই খাতের অন্তত ৩০টির বেশি  প্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২৫ বিলিয়ন রুপিরও বেশি, পাশাপাশি প্রায় আড়াই হাজার কর্মী কাজ হারান।  তবে দেশটির সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়, নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড, হোটেল অ্যাসোসিয়েশন নেপাল ও ভ্রমণ–ট্র্যাকিং সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে দেশের ভাবমূর্তি ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে।  এতে খাতটি নতুন করে আস্থা ফিরে পাচ্ছে।  

অতীতের ভূমিকম্প, বাণিজ্য অবরোধ কিংবা মহামারি মোকাবিলার অভিজ্ঞতা থেকে নেপাল পুনরুদ্ধারের পথ জানে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার করা, লক্ষ্যভিত্তিক নীতি সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় প্রচার।  ইতোমধ্যে ভ্রমণ তথ্যে পুনরুদ্ধারের আভাস মিলেছে।  পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো মনে করছে, আগামী কয়েক মাস নেপালকে আবারও শীর্ষ অভিযাত্রা ও সাংস্কৃতিক গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরতের ভ্রমণ মৌসুমে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত পদক্ষেপেই খাতটি দ্রুত পুরোনো গতিশীলতা ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত নেপালে এসেছেন ৩৩ হাজার ৬৩৮ জন বিদেশি পর্যটক।  শুধু আগস্টেই আগমন ছিল ৮৮ হাজার ৬৮০ জনের।  ২০২৪ সালে মোট আগমন হয়েছিল ১১ লাখ ৫০ হাজার, যা ২০২৩ সালের ১০ লাখ ১০ হাজার থেকে বেড়েছে।  তবে মহামারির আগের সর্বোচ্চ রেকর্ড ২০১৯ সালের প্রায় ১২ লাখ পর্যটকই এখনও মানদণ্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড শিগগিরই বৈশ্বিক ভ্রমণ পরামর্শ জারি করবে, যেখানে দেশটির নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির বার্তা তুলে ধরা হবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী দীপক রাজ জোশী বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় আমরা নিশ্চিত, পর্যটন খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে।

পর্যটন সচিব হরি প্রসাদ মাইনালি বলেছেন, আমরা ইতোমধ্যে সংস্কার শুরু করেছি, যাতে সারা বিশ্বে নেপালের নিরাপত্তা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি ছড়িয়ে দেওয়া যায়।

হোটেল অ্যাসোসিয়েশন নেপালের সভাপতি বিনায়ক শাহ বলেন, পর্যটন মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। আমাদের ইতিবাচক বার্তা বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দিতে হবে। নেপাল নিরাপদ, সম্ভাবনায় ভরপুর।

সূত্র: দ্য হিমালয়ান টাইমস