ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মিরে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহারের ওপর সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা জারি বিভিন্ন ঘরানার পেশাজীবী, সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। তারা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা অঞ্চলটিতে ইতোমধ্যে চাপিয়ে দেওয়া নানা বিধিনিষেধকে আরও তীব্র করে তুলেছে এবং মানসিক চাপ বাড়িয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবরটি জানিয়েছে।
গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে দুই মাসের জন্য জারি করা এই নিষেধাজ্ঞার বৈধতার পক্ষে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অশান্তি উসকে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে ভিপিএনের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা জরুরি ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাস্তায় পথচারী ও গাড়িচালকদের থামিয়ে মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হচ্ছে।
কাশ্মিরের এক আইটি কর্মী বাসিত বান্দে বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারের সাম্প্রতিক আদেশটি বিভিন্ন ঘরানার পেশাজীবীদের জীবন ও জীবিকার জন্য ভিপিএনের ওপর নির্ভরশীলতার কথা যথেষ্ট বিবেচনা না করেই জারি করা হয়েছে। ভিপিএন যেকোনও আইটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাধ্যতামূলক। কর্পোরেট ই-মেইলের মতো অ্যাপ্লিকেশনও ভিপিএন ছাড়া অ্যাক্সেস করা যায় না।”
অশান্ত ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কর্মরত সাংবাদিকরা ভিপিএনকে নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে ব্যবহার করেন, বিশেষত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির সময়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাশ্মিরি সাংবাদিক বলেন, “এখন সেই সুরক্ষার স্তরটি হারিয়ে গেছে।”
এই অঞ্চলের বাসিন্দারা বলছেন, এই অভিযান দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধের তালিকায় নতুন যোগ হয়েছে। এক স্থানীয় আইনজীবী আদেশটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আর ডিজিটাল অধিকার কর্মীরা পুলিশ কর্তৃক ফোন আনলক করতে বাধ্য করাকে মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।
কাশ্মিরে ইন্টারনেট বিধিনিষেধ নতুন কিছু নয়। ২০১২ সাল থেকে ভারতে মোট ৯০১টি ইন্টারনেট বন্ধের আদেশের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই এই অঞ্চলে। ২০১৯ সালে কাশ্মিরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের পর কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে আনার পর থেকে এই কড়াকড়ি আরও বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের জন্য ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত আরেক সাংবাদিক ফুরকান বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞা কাশ্মিরিদের ওপর মানসিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। মনে হয় যেন আমাদের চিন্তাভাবনার জন্যই একটা শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এই বিধিনিষেধ আরোপের মধ্য দিয়ে। একজন কাশ্মিরি ভিপিএন ব্যবহারের মতো সাধারণ কাজ করতে গিয়েও এত ঝুঁকি নিচ্ছে কেবল তার প্রয়োজনের খাতিরেই, অথচ এই কাজগুলো একজন স্বাধীন নাগরিকের জন্য আইনানুগভাবেই বৈধ হওয়া উচিত।”
কর্তৃপক্ষের দাবি, অননুমোদিত ভিপিএন ব্যবহার সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি। তবে স্থানীয়রা বলছেন, এটি তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও অসন্তোষ দমনের অংশ।