ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর করতেই এই চুক্তিতে পৌঁছেছে দুই পক্ষ। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমে বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর উরসুলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আমরা মাদার অফ অল ডিল সম্পন্ন করেছি। তিনি আরও বলেছেন, আমরা দুই বিলিয়ন মানুষের একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল তৈরি করেছি। উভয় পক্ষই এতে লাভবান হবে। এটি কেবল শুরু, পরবর্তীতে আমরা আমাদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবো।
প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেছেন, এই চুক্তি ফলে ইউরোপীয় বাজারে ভারতের কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রবেশ সহজ হবে। পাশাপাশি উৎপাদন ও সেবা খাত শক্তিশালী হবে এবং নতুন উদ্ভাবনী অংশীদারত্ব তৈরি হবে।
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে রাসায়নিক পণ্য, যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, বিমান ও মহাকাশযানের রফতানিতে ধাপে ধাপে শুল্ক কমানো হবে। বিশেষভাবে, বর্তমানে গাড়ির ওপর ১১০ শতাংশ শুল্ক, তা ২ লাখ ৫০ হাজার গাড়ির জন্য কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে। এর ফলে ইউরোপীয় পণ্য, যেমন গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও কৃষিভিত্তিক খাদ্যপণ্য ভারতে আমদানিতে সস্তা হবে। তবে দুগ্ধ ও চিনি জাতীয় সংবেদনশীল কৃষিপণ্য এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে।
এই চুক্তির ফলে ২৭টি ইউরোপীয় দেশের জোট ইইউ এবং বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতের মধ্যে পণ্যের মুক্ত বাণিজ্যের পথ খুলে যাবে। দুই পক্ষ মিলিয়ে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২৫ শতাংশ এবং প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বাজার গড়ে উঠবে। চুক্তির আওতায় দুই পক্ষের মধ্যে শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইইউ বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই পক্ষের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ১৩৬ বিলিয়ন ডলার, যা গত দশ বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ভারত ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা ২০০৭ সালে শুরু হলেও বাজার ও নীতিগত বাধার কারণে ২০১৩ সালে থেমে যায়। পরে ২০২২ সালের জুলাইয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়।