ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় রবিবার ২৩টা ৩৭ মিনিট) এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়, যদিও কয়েক ঘণ্টা পর কিছু দেশের সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও এবং ছবিতে বহু ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে বিখ্যাত ফাস্টফুড চেইন শপ জলিবি’র একটি রেস্তোরাঁ ভেঙে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়।
এক স্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পে দেশটির বেশ কয়েকটি প্রদেশে অন্তত ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সাউথ কোটাবাটো, সুলতান কুদারাত, সারাঙ্গানি প্রদেশ এবং জেনারেল সান্তোস শহর রয়েছে। তবে আহতের এই সংখ্যাটি এখনও দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, সরকার তৎপর রয়েছে এবং আমরা মিন্দানাওবাসীকে কোনোভাবেই পেছনে ফেলে যাব না।
ভূমিকম্পের দিনটি ফিলিপাইনের নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন হওয়া সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট মার্কোস ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে স্কুল-কলেজের ক্লাস স্থগিত করার নির্দেশ দেন।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলে ১.৩ থেকে ৬.৭ মাত্রার আরও ১৩০টিরও বেশি আফটারশক বা মৃদু ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। ভূমিকম্পের ধাক্কায় উপকূলীয় সারাঙ্গানি প্রদেশে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, তবে পরবর্তীতে তা আবার সচল করা হয়।
সূত্র: বিবিসি