‘ফুটপাতে নিরাপদে হাঁটা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার’

ফুটপাতে নিরাপদে হাঁটা মানুষের একটি মৌলিক অধিকার এবং এটি নিশ্চিত করতে সরকারকে আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে আদালত পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে পথচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি, চিহ্নিতকরণ ও তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আইনিভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

স্কুলে যাওয়ার পথে ৫ বছর বয়সী এক শিশুর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত এক মামলার রায়ে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি এস নরসিমা এবং বিচারপতি অতুল এস চান্দুরকরের বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় দেন।

রায়ে আদালত স্পষ্ট করে বলেছে যে সংবিধানের ৩য় খণ্ডের অধীন ‘হাঁটার অধিকার’ একটি মৌলিক অধিকার, যা চলাফেরার স্বাধীনতার এবং জীবন ধারণের অধিকারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই অধিকার সাধারণ মোটরযানের চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে। রাস্তা থাকলে সেখানে পথচারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও সুপরিচালিত ফুটপাত থাকাও বাধ্যতামূলক। ফলে নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও পঞ্চায়েতকে এই ফুটপাত তৈরি ও তা সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব পালন করতে হবে। ফুটপাতে হাঁটার অধিকার লঙ্ঘিত হলে নাগরিকেরা দায়ী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক ও আইনি প্রতিকার এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন, যা মোটরযান আইনের বাইরে সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি প্রক্রিয়া হবে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, এক শিশু তার বাবার সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার সময় পেছন থেকে একটি ট্যাংকার তাকে চাপা দিলে গুরুতর জখম হয়ে সে মারা যায়। দুর্ঘটনাটি যেখানে ঘটেছিল, সেখানে কোনও ফুটপাত বা জেব্রা ক্রসিং ছিল না। মোটর দুর্ঘটনা দাবি ট্রাইব্যুনাল প্রথমে ৭ লাখ ৮২ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দিলেও হাইকোর্ট তা কমিয়ে ৪ লাখ ৭০ হাজার রুপি করে। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের ওই সিদ্ধান্তকে ভুল আখ্যা দিয়ে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়িয়ে ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৮ রুপি নির্ধারণ করে এবং তা আগামী দুই মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেন।

আদালত আক্ষেপ করে বলেছে, মানুষ চাকার আবিষ্কারের অনেক আগে থেকেই হাঁটতে শিখেছে। কিন্তু চাকা আমাদের কল্পনাকে এমনভাবে গ্রাস করেছে যে পৌর প্রশাসন শুধু মোটরযানের উপযোগী রাস্তা তৈরিতেই ব্যস্ত ছিল। এমনকি ‘পথচারী’ শব্দটিকেও একধরনের তুচ্ছার্থে রূপ দেওয়া হয়েছে। এই সাধারণ ফুটপাত যেন শুধু মোটরযান মালিকদের একচেটিয়া দখলে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতেই হাঁটার স্বাধীনতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই মৌলিক অধিকার রক্ষা ও বাস্তবায়নে একটি সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের তাগিদ দিয়ে রায়ের কপি আবাসন ও নগরবিষয়ক, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন এ বিষয়ে দ্রুত আইনি কাঠামো তৈরি করা যায়।

সূত্র: উইয়ন নিউজ