ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় চলমান তরুণদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে দেশ-বিদেশের সমর্থকরা খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠিয়ে আন্দোলন সচল রাখতে সহায়তা করছেন। পুলিশের দমন-পীড়নের মধ্যেও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
খাবার সরবরাহকারী রাইডার সুরজ কুমার বলেন, কেরালা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত সব জায়গা থেকেই অর্ডার আসছে। তিনি জানান, কচুরি, পানি ও বিভিন্ন খাবারের প্যাকেট বিক্ষোভস্থলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে মে মাসে অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন গত মাস থেকে সেখানে অবস্থান করছে। জনপ্রিয় অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক অনশন শুরুর পর বিক্ষোভে নতুন গতি পায়।
‘মানুষের সহমর্মিতাতেই আন্দোলন চলছে’
স্বেচ্ছাসেবক রাজ রাঠোর বলেন, পুলিশ নিরীহ শিক্ষার্থীদের মারধর করার পর মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। সবাই আসতে পারছেন না, তাই খাবার পাঠাচ্ছেন।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিনা রাওয়াত বলেন, এই আন্দোলন পুরোপুরি মানুষের সহমর্মিতা আর আমাদের ঐক্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সোমবার পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত হলেও পরদিন আবারও বিক্ষোভস্থলে ফিরে আসেন তিনি।
মোদির বিরুদ্ধে বিরল প্রকাশ্য সমালোচনা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভ নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি। তবে ক্ষমতাসীন জোটের এক বৈঠকের পর এক মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সম্ভাব্য সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন মোদি। অন্যদিকে ধর্মেন্দ্র প্রধান জবাব, সংস্কার ও জবাবদিহির আশ্বাস দিয়েছেন।
বুধবার বিকালে বৃষ্টির মধ্যেও বিক্ষোভকারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারে পৌঁছায়। স্লোগান, পোস্টার ও দেশাত্মবোধক গান নিয়ে সেখানে জড়ো হন অধিকাংশই জেন-জি প্রজন্মের শিক্ষার্থী।
এক বিক্ষোভকারী স্লোগান দেন, মোদি, আপনার স্বৈরতন্ত্র আমরা মেনে নেব না।
নিজের পুরো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুকেশ বলেন, ১০ দিন আগেও আমি মোদির সমর্থক ছিলাম। কিন্তু পুলিশের বর্বরতা দেখে আমি হতবাক।
চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন তরুণ চিকিৎসকরা
বিক্ষোভস্থলে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক ও মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরা পরিচালিত একটি মেডিক্যাল ক্যাম্পে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
স্বেচ্ছাসেবী ভাবনা বলেন, মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাবের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ দিচ্ছি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে আমরাও ভুগেছি, এর মানসিক চাপ অনেক।
অনেক বিক্ষোভকারী ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ভগত সিংয়ের ছবি ও সংবিধানের কপি বহন করছেন। কেউ কেউ স্পাইডারম্যানের মুখোশ পরে নিজেদের ‘ব্যাডিজ’ বলেও পরিচয় দিচ্ছেন।
১৯ বছর বয়সী অর্পিতা বর্মা বলেন, ভারতে হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু এখানে সেসবের কোনও জায়গা নেই। এখন আমরা একটি অভিন্ন দাবিতে ঐক্যবদ্ধ, আর আমরা মোটেও ভয় পাচ্ছি না।
সূত্র: রয়টার্স