পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে চলা আন্দোলনের সময় পুলিশের গাড়ি আটকে গ্রেফতার হওয়ার ঝুঁকি নিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এক নারী। মুম্বাইয়ের দাদারে শিবাজী পার্কের কাছে প্রতিবাদ চলাকালীন পুলিশের প্রিজন ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে গাড়ি আটকে দেওয়ার এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এনইইটি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন আন্দোলনকারীরা। সে সময় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে আটক প্রতিবাদকারীদের প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে রিহা আহির নামের ২৭ বছর বয়সী ওই নারী গাড়ির সামনে একাই দাঁড়িয়ে যান।
বৃষ্টির মধ্যে ধূসর রঙের হুডি ও ক্যাপ পরা রিহাকে একাই প্রিজন ভ্যানটি আটকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ভিডিওতে। তাকে এভাবে অবিচল দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অন্য সাধারণ মানুষও সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। জানা গেছে, তার এই বাধার কারণে পরবর্তীতে আটক কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে পুলিশ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ক্লিপে এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় রিহাকে। তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারছি তারা (দিল্লি পুলিশ) তাদের কাজ করছে, কিন্তু দায়িত্বশীলভাবে করছে না। তারা যদি দায়িত্বশীল আচরণ না করে, তবে আমাদের নাগরিকদের দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারা যা করেছে তা ভুল এবং তাদের এটি স্বীকার করতেই হবে।
তিনি নিজে শিক্ষার্থী না হলেও আন্দোলনকারীদের পাশে রয়েছেন বলে জানান। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে রিহা আরও বলেন, আমরা তো দিল্লির যন্তর মন্তরে যেতে পারছি না। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের হয় পদত্যাগ করা উচিত, না হয় তার নিজেরই যন্তর মন্তরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা উচিত।
গত ২০ জুলাই দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি আয়োজিত এনইইটি প্রশ্ন ফাঁসবিরোধী একটি প্রতিবাদ সহিংস রূপ নেওয়ার পর এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
এর আগে ৩ মে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলে গত ১২ মে পরীক্ষাটি বাতিল ঘোষণা করে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। পরবর্তীতে ২১ জুন নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক নেতাদের তোপের মুখে পড়ে কর্তৃপক্ষ। পুরো ঘটনায় এখন পর্যন্ত সিবিআই ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে, যারা বর্তমানে বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন।
সূত্র: উইয়ন নিউজ