জুলাইয়ের প্রখর রোদে পুড়ছিল যন্তর মন্তর। তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছিলো পুরো এলাকা। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার প্রতিকারে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রার পরদিনও সেখানে জমায়েত হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। প্রবেশপথে দিল্লি পুলিশের কড়া নিরাপত্তা থাকলেও ভেতরে পরিবেশ ছিল একইসঙ্গে শান্ত ও সংকল্পবদ্ধ।
হাজারো মানুষের সেই ভিড়ের মাঝে সব আওয়াজ ও স্লোগান থেকে একটু দূরে একা দাঁড়িয়ে ছিলেন ৮৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। কোনও প্ল্যাকার্ড কিংবা মাইক্রোফোন ছিল না তার হাতে। কৌতূহল নিয়ে কেন এসেছেন জানতে চাইলে তিনি সরাসরি উত্তর দেন, এই আন্দোলনকে সমর্থন ও সংহতি জানাতে এসেছি।
কলকাতা ও দিল্লিতে বসবাস করা এই প্রবীণ সামাজিক কর্মী অতীতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ও কাশ্মীর ইস্যুতে কাজ করেছেন। দুদেশের প্রধানমন্ত্রীদের আলোচনার আহ্বান জানিয়ে নাগরিক চিঠির উদ্যোগও নিয়েছিলেন তিনি। এর আগেও এই কর্মসূচিতে দুবার এসেছিলেন এবং অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গেও দেখা করেছেন বলে জানান।
শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তার প্রত্যাশা কী জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সরকার কেন দেরি করছে বুঝতে পারছি না। সমস্যাটির সমাধানই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। অনেক তরুণ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আজ ঝুঁকিতে।
কথা শেষ করার আগে এক গভীর বোধ থেকে তিনি যোগ করেন, ‘হ্যাঁ, আমার নাতি-নাতনি আছে। তবে আমি শুধু তাদের কথা ভেবে এখানে দাঁড়াইনি। এটা দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর বিষয়। সমাধান আসতেই হবে, প্রশ্ন ফাঁস কখনোই মেনে নেওয়া যায় না।
বিক্ষোভের এই ভিড়ে মাইক হাতে উচ্চকণ্ঠে কথা বলা বক্তা নন, বরং তীব্র গরম উপেক্ষা করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা এই বৃদ্ধই যেন আন্দোলনটির আসল গুরুত্ব সবাইকে মনে করিয়ে দিলেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে