চীন-আসিয়ান সম্পর্ক নিয়ে যা বললো বেইজিং

দক্ষিণ চীন সাগর সংক্রান্ত বিরোধ বা আঞ্চলিক বিষয়গুলো কোনও অবস্থাতেই চীন-আসিয়ান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও অন্তরায় সৃষ্টি করা উচিত নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বেইজিং। বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র লিন চিয়েন বর্তমান আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চীন ও আসিয়ান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা মূল্যায়নে বেইজিংয়ের এই সুনির্দিষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন।

 

মুখপাত্র লিন চিয়েন জানান, বুধবার ম্যানিলায় চীন-আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ এবং আসিয়ান মহাসচিব উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই উল্লেখ করেন, উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতাদের যৌথ কৌশলগত দিকনির্দেশনায় চীন-আসিয়ান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। বেইজিং ইতোমধ্যে আসিয়ানভুক্ত ৮টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর যৌথ উন্নয়ন ও কৌশলগত সুরক্ষার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় ও গভীর হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই জোর দিয়ে বলেন, দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলটি মূলত এই অঞ্চলের সব দেশের এক যৌথ সুনির্দিষ্ট আবাসভূমি। ফলে এই ইস্যু দুপক্ষের সম্পর্কে বাধা হওয়া উচিত নয়।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চীন ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সেই প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা ও সক্ষমতা রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা দক্ষিণ চীন সাগরের যেকোনও ইস্যুকে সঠিকভাবে ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিরসন করতে পারবে। এর ফলে শান্তি, স্থিতিশীলতা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বই দক্ষিণ চীন সাগর সম্পর্কিত মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে এবং আঞ্চলিক দেশগুলো শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মূল নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌম কর্তৃত্ব নিজেদের হাতেই শক্তভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হবে।

সূত্র: সিএমজি