আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ভ্রমণকারী ভারতীয় মহাকাশচারী ও গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভ্রাংশু শুক্লা মহাকাশে দেশের স্বাদ সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন ঠিকই। তবে খিচুড়ি কিংবা পোলাও নয়, মহাকাশের পরীক্ষায় পাস করে ঠাঁই পেয়েছিল মাত্র তিনটি খাবার গাজরের হালুয়া, মুগ ডালের হালুয়া ও আমরস।
ডিআরডিও-র অধীনস্থ ডিফেন্স ফুড রিসার্চ ল্যাবরেটরি মহাকাশের জন্য বেশ কয়েকটি ভারতীয় পদের তালিকা প্রস্তুত করলেও জিরো গ্র্যাভিটিতে খাদ্যের গুণমান, স্থায়িত্ব ও সুরক্ষার কঠিন পরীক্ষায় কেবল এই তিন পদই টিকে যায়। রাজ শামানীর পডকাস্টে শুভ্রাংশু জানান, কঠোর পরীক্ষার কারণে খিচুড়ি বা বিভিন্ন সবজির পদ শেষ পর্যন্ত মহাকাশে পাঠানোর অনুমোদন পায়নি।
মজার বিষয় হলো, মহাকাশে ভারতীয় খাবার পৌঁছালেও শুভ্রাংশু নিজে তা চেখে দেখার সুযোগ পাননি। হাসতে হাসতে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও জাপানের সহ-মহাকাশচারীরা আগেই তা চেটেপুটে খেয়ে শেষ করেন। তবে মহাকাশে বন্ধুদের সঙ্গে এই খাবার ভাগ করে নিতে পেরে তিনি আনন্দিত।
শুভ্রাংশু জানান, মাইক্রোগ্র্যাভিটির কারণে মহাকাশে শরীরের তরল ওপরের দিকে উঠে যায় এবং নাক বন্ধ থাকে, ফলে খাবারের স্বাদ ও গন্ধ কমে যায়। মিশন শেষে পৃথিবীতে ফিরতেই অ্যাক্সিওম স্পেসের সার্জন তাকে চিপসের প্যাকেট দিলেও, ভারতীয় ফ্লাইট সার্জন এনেছিলেন কলার চিপস, বাকরবাড়ি ও শুকনো কচুরি। মহাকাশ থেকে ফিরে প্রথম দেশীয় খাবার হিসেবে শুকনো কচুরি খেয়েই তৃপ্ত হন শুভ্রাংশু।
সূত্র: এনডিটিভি