ডেভিড ইমনের কাছে পাওয়া ভারতীয় আধার কার্ড আসলে কী, কোন কাজে লাগে

আধার কার্ড হলো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক ভারতীয় নাগরিকদের প্রদান করা ১২ ডিজিটের একটি অনন্য পরিচয় নম্বর। ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ইউআইডিএআই) প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের বায়োমেট্রিক ও ডেমোগ্রাফিক তথ্য নথিভুক্ত ও যাচাই করার পর এই কার্ড ইস্যু করে। আধার কার্ড প্যান, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিকল্প নয়, তবে এটি একক পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং টেলিকম কোম্পানিগুলো নো-ইওর-কাস্টমার (কেওয়াইসি) যাচাইকরণের কাজেও এটি ব্যবহার করতে পারে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুসারে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, কর রিটার্ন জমা দেওয়া, নতুন ও বিদ্যমান মোবাইল নম্বর এবং ইউজার ক্রেডেনশিয়াল যাচাইয়ের মতো অ-কল্যাণমূলক কাজে সরকারের আধার ব্যবহারে কোনও বাধা নেই। তবে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে যে, কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোতে সরকার আধার বাধ্যতামূলক করতে পারবে না। যদিও কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রকল্পে এর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ভারত সরকার সম্প্রতি বিভিন্ন কল্যাণমূলক ও অ-কল্যাণমূলক সরকারি সুবিধা ও স্কিমে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক করে একাধিক ঘোষণা জারি করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

আবাসন ও কৃষি সুবিধা: বিড়ি, লৌহ আকরিক ও চুনাপাথর শ্রমিকদের গৃহায়ন ভর্তুকি পেতে আধার লাগবে। ফসলি বিমার সুবিধা পেতে এবং ভর্তুকিযুক্ত খাদ্যশস্য বা নগদ সুবিধা নিতে কৃষকদের ৩১ মার্চের মধ্যে আধার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া সয়েল হেলথ ম্যানেজমেন্ট ও সয়েল হেলথ কার্ড স্কিমেও আধার লাগে।

নারী, শিশু ও শিক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্প: সম্পূরক পুষ্টি কার্যক্রম, ইন্টিগ্রেটেড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস-এর অধীনে প্রশিক্ষণ এবং শিশুদিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোতে সম্পূরক খাবারের জন্য আধার লাগবে। মাতৃত্বকালীন সুবিধা প্রোগ্রাম, সমন্বিত শিশু সুরক্ষা প্রকল্প, নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সুবিধা (যেমন, ভোকেশনাল ট্রেনিং, ঋণ) পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক।

বৃত্তি ও শিক্ষা: জাতীয় মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ, কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষা বৃত্তি, সর্বশিক্ষা অভিযানের আওতায় ৬-১৪ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা প্রশিক্ষণ স্কিমে সুবিধা পেতে আধার লাগে। গৃহ কল্যাণ কেন্দ্র ও ই-পঞ্চায়েত প্রশিক্ষণেও আধার কার্ড জরুরি।

স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সরকারি ভাতা: জননী সুরক্ষা যোজনা, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন-এর আওতায় থাকা আশা কর্মী, জাতীয় মহিলা ক্ষমতায়ন মিশন এবং কিশোরী নারী স্কিম-এ আধার আবশ্যিক। জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি এবং দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা/জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন-এ আধার যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডির শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও আধার নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

শ্রমিক ও অন্যান্য সুবিধা: জাতীয় উদ্ভাবনী প্রযুক্তি পুরস্কার, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বল যোজনা (দরিদ্রসীমার নিচের নারীদের জন্য) এবং মুক্ত হওয়া ক্রীতদাস পুনর্বাসন স্কিম-এর ক্ষতিপূরণ পেতে আধার লাগে। এ ছাড়া হর্টিকালচার বিভাগ ও ন্যাশনাল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রমোশন স্কিম-এর সুবিধাতেও এটি আবশ্যক।

মিড-ডে মিল ও রেলসেবা: স্কুলের মিড-ডে মিলের সুবিধা নিতে শিক্ষার্থী এবং এর সঙ্গে যুক্ত রাঁধুনি ও সহযোগীদের আধারে নিবন্ধিত হতে হয়। ভারতীয় রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বুকিং পোর্টালেও আধার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আয়কর ও প্যান সংযোগ: আয়কর রিটার্ন দাখিল এবং নতুন প্যান কার্ডের আবেদনের জন্য আধার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্যান কার্ডের সঙ্গে আধার সংযোগ করা জরুরি। এই সংযুক্তি না থাকলে প্যান কার্ড বাতিল বলে গণ্য হয়।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস